হুঙ্গা রহস্য
শঙখ শুভ্র নায়ক
পূর্ব কথা-- ব্যাঙ্কের কেসটা সলভ করার পর দিন কয়েক বেশ রিলাক্স ভাবেই কাটাচ্ছিল ডিকে। পঁচিশ লক্ষ টাকা এক সঙ্গে কোনো কেসে পাওয়া তো সহজ ব্যাপার নয়, কত হাই প্রোফাইল কেস হলে সেটা পাওয়া যায়। এই টাকা দিয়ে ডিকে একটা ডিটেকটিভের চেম্বার খুলেছে। চেম্বারের নাম দিয়েছে অনুবিক্ষন ডিটেকটিভ এজেন্সি। আজ সেই চেম্বারের শুভ উদ্বোধন।
(১)ডিকে বলল, "শুভ সব কিছু ঠিকঠাক সাজানো হয়েছে তো? একবার চেক করে দেখেনে।"
শুভ বলল, "হ্যাঁ সাজানো তো ঠিকঠাকই হয়েছে, তবে আজ উদ্বোধনের মিষ্টি গুলো বোধহয় আমাদেরই খেতে হবে।"
ডিকে বলল, "কি বলিস, এত এনাউন্সম্যান্ট করার পরে একটা কাস্টমারও জুটবেনা? এতবড় শহরে একটা লোকেরও বউ পালাবেনা? কারুর কুকুর বেড়াল হারাবেনা? কোনো মেয়ের স্বামীকে ফলো করার কাজ আসবেনা?"
শুভ বলল, "এসব কাজের জন্য লোকে তোমার কাছে আসবে কেন? অনেক সাকসেসফুল গোয়েন্দা আছে সে জন্য, লোকে গেলে তাদের কাছেই যাবে।"
ডিকে বলল, "আমি কি আনসাকসেস ফুল? এর আগে দুটো কেস সলভ করেছি। জিগালো রহস্য আর ভূতুড়ে কেস। হ্যাঁ, হয়তো আমাকে নিয়ে মাতামাতি হয়নি, কিন্তু তুই তোর ব্লগে গল্প লিখেছিস, দুপাঁচজন সে ব্যাপারটা জানেও। তারপরেও যদি সারাদিনে সবেধন নীলমণি একটা কাস্টমার না আসে, তো আমার কী করার আছে?"
মাথা নেড়ে বাইরে দিকে তাকাতেই শুভ দেখল তিনজন লোক হাঁটতে হাঁটতে এই চেম্বারের দিকেই এগিয়ে আসছে। উৎফুল্ল ভাবে বলল, "ওই দেখ, তোমার লক্ষ্মী আসছে বোধহয়।"
ডিকে বলল, "ভদ্রভাবে বসে পড়, আমাদের এবারে একটু সিরিয়াস হতে হবে। কথায় বলে প্রথমে দেখনদারি, তারপর গুন বিচারী।"
কথা বলতে বলতেই তিন ভদ্রলোক চেম্বারের কাছে এসে দাঁড়ালেন। তিনজনেরই বয়স চল্লিশ থেকে পঞ্চাশের কোঠায়। তাদের মধ্যে এক ভদ্রলোকের গায়ে ব্লেজার। দেখে মনেহয় উনি কোনো অফিস বা হোটেলে কাজ করেন। বাকি দু'জন ভদ্রলোকের একজনের গায়ে ধুতি পাঞ্জাবি আর অপরজন প্যান্ট শার্ট পরে আছে। ব্লেজার পরা ভদ্রলোক বাইরে থেকে উঁকি মেরে বললেন, "এটা কি ডিটেকটিভ ডিকের চেম্বার?"
ডিকে বলল, "আজ্ঞে, আপনি কি হোটেল হোয়াইট হাউসের ম্যানেজার?"
রুমে ঢুকতে ঢুকতে ভদ্রলোক বললেন, "আপনি আমাকে চেনেন?"
ডিকে বলল, "না, কাল সকালে হোটাইট হাউসে একটা লাশ পাওয়া গিয়েছে। যে কথা আমি পেপারে পড়েছি, আপনার ড্রেস দেখে মনেহল হয়তো সেই কেস নিয়েই আপনি এসেছেন।"
ভদ্রলোক বললেন, "আপনি ঠিকই ধরেছেন। আমার নাম সৌমেন্দ্র রায়। আমি হোয়াইট হাউস হোটেলের ম্যানেজার। এই শহরের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে নামি হোটেল গুলোর মধ্যে একটা আমাদের হোটেল। আমাদের হোটেলের বিশেষত্ব হচ্ছে এটাই আমরা আমাদের হোটেলে কোনো রকমের ড্রাগস এলাউ করিনা। আমাদের হোটেল একটা বিশাল সাইজের রিহ্যাব সেন্টার, অনেকে নিজে থেকে এখানে নিজেদের ড্রাগসের নেশা ছাড়ানোর জন্য আসে, আবার অনেকে তাদের আত্মীয়দের আমাদের হোটেলে পাঠায়। সারা ভারতে আমাদের কাস্টমার আছে, এবং বহুলোককে আমরা ড্রাগসের নেশা থেকে মুক্ত করেছি। এজন্য আমরা রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারও পেয়েছি। হোটেলে ঢোকার আগে ড্রাগসের জন্য তিনবার চেক হয়, তারপর হোটেলে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়, কিন্তু ওই মৃত্যুটা আমাদের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে।"
ডিকে বলল, "কেন কি আছে ওই মৃত্যুতে?"
সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "যে ভদ্রলোক মারা গেছেন, তার নাম হর্ষবর্ধন তরফদার। উনি আমাদের হোটেলে প্রায় একমাস ছিলেন। ফরেন্সিক টেস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী অতিরিক্ত ড্রাগ সেবনের ফলে ওনার মৃত্যু হয়েছে। বুঝতে পারছিনা ওনার শরীরে ড্রাগস কিভাবে এল। মনেহচ্ছে কেউ আমাদের হোটেলের বদনাম করার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে ওনাকে ড্রাগস সাপ্লাই করেছে।"
ডিকে বলল, "আচ্ছা, কি ধরনের ড্রাগসে উনি মারা গেছেন কিছু জানা গেছে?"
সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "পুলিশ বলছে ড্রাগসের নাম হুঙ্গা। এই ড্রাগ মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার এইচ আই ভি পেসেন্টদের চিকিৎসা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।"
ডিকে বলল, "মাইগড! মেদিনীপুর শহরে হুঙ্গার স্টক এসে গিয়েছে বলে মনেহচ্ছে। এর আগে একটা কেসে এই ড্রাগসের সাহায্যে একজনকে অজ্ঞান করা হয়েছিল।"
শুভ বলল, "কোন কেসে?"
ডিকে বলল, "ব্যাঙ্কের কেসে দারোয়ান রাম সিং কে যে নিষিদ্ধ ড্রাগ দেওয়া হয়েছিল তার নামও হুঙ্গা, একথা পুলিশ অফিসার সমীর বাবু আমাকে জানিয়েছেন।"
শুভ বলল, "তাহলে তো ওই কেসের আসামি ছটু এক্সপার্ট কে জেরা করলে এই ড্রাগ ও কোথা থেকে পেল তা জানা যাবে।"
হঠাৎ সামনের ধুতি পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোক বললেন, "এই কেসে, এই ড্রাগ ও কোথা থেকে পেল, তারচেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই ড্রাগ হোটেলে পৌঁছাল কিভাবে?"
ডিকে বলল, "আপনি?"
ভদ্রলোক বললেন, "আমার নাম অমিয় মাইতি। আমি এই হোটেলের একজন বোর্ডার।"
সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "ইনি ওইদিন রাতে কিছু দেখেছিলেন, সেটা বলতেই আমার সঙ্গে এলেন।"
ডিকে বলল, "কি দেখেছিলেন?"
অমিয় বাবু বললেন, "তখন রাত দেড়টা দুটো বাজে। আমার রাতে ঘুম হয়না ঠিক ঠাক। মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যেতে আমি হোটেলের ব্যালকনিতে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একটা লোক দেওয়ালের উপর দিয়ে ছুটতে ছুটতে একুশ তলায় চলে গেল।"
ডিকে বলল, "একুশ তলায় গেল কিভাবে বুঝলেন?"
অমিয় বাবু বললেন, "তখনও তিন চারটা রুমে আলো জ্বলছিল। আমি থাকি সতেরো তালায়। আলোর দূরত্ব থেকে মনেহল, ওটা তেইশ তলা হবে।"
ডিকে বলল, "আচ্ছা, তারপর কি দেখলেন বলুন?"
অমিয় বাবু বললেন, "তার কয়েক মিনিট পরে লোকটাকে আবার দেওয়াল বেয়ে ছুটে নামতে দেখলাম। লোকটা এমন ভাবে দেওয়ালের উপরে ছুটছিল মনেহচ্ছিল সে দেওয়ালে নয় ফাঁকা রাস্তায় ছুটছে।"
ফিসফিস করে শুভ বলল, "স্পাইডার ম্যান।"
প্যান্টশার্ট পরা ভদ্রলোক বললেন, "আমিও দেখেছি। আমি তেরো তলাতে থাকি। মাঝরাতে জানালা বন্ধ করতে গিয়ে দেখলাম আমার রুমের পাশের রুমের জানালার কাছে লোকটা দাঁড়িয়েছিল। আমার সঙ্গে চোখাচুখি হতেই লোকটা দৌড়ে উপরের দিকে চলে গেল।"
ডিকে বলল, "আপনার পরিচয়?"
ভদ্রলোক বললেন, "আমার নাম রতন সরকার। আমি এই সাতদিন হল এই হোটেলে এসেছি।"
ডিকে মাথা নাড়ল। বলল, "আপনারা এসব কথা পুলিশকে জানিয়েছেন?"
অমিয় বাবু এবং রতন বাবু দু'জনেই মাথা নাড়লেন। অমিয় বাবু বললেন, "পুলিশকে এসব কথা বললে পুলিশ কি বিশ্বাস করত বলে আপনার মনেহয়?"
রতন বাবু বললেন, "আমি ঝামেলায় জড়াতে চাইনি, তাই বলিনি, কিন্তু যখন শুনলাম ম্যানেজার বাবু আপনার কাছে আসছেন তখন আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না, চলে এলাম ওনার সঙ্গে।"
ডিকে বলল, "খুব ভাল করেছেন," সৌমেন্দ্র বাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন, "আপনার হোটেলে তো সিসি টিভি আছে, তার ফুটেজ দেখতে চাইলে পেতে পারি তো?"
সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "আলবাত পাবেন। আপনি আজ বিকেলে আমার হোটেলে আসুন না।"
ডিকে বলল, "আচ্ছা, নিশ্চই যাব। যদি প্রোয়োজন হয় তাহলে আপনার হোটেলে দু'একরাত কাটাব," শুভর দিকে তাকিয়ে বলল, "আমার ভাই শুভ ও আমার সঙ্গে যাবে। আপনি দু'জনের থাকার ব্যবস্থা করে রাখবেন।"
সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "নিশ্চই। কোনো চিন্তা করবেন না, সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।"
হোয়াইট হাউস হোটেলটা কিছুটা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হাউস হোয়াইট হাউসের আদলেই বানানো। ওরা যখন হোটেলে গিয়ে পৌঁছাল তখন বিকেল পাঁচটা বাজে। রিসেপশনে গিয়ে ওরা ম্যানেজার বাবুর সঙ্গে দেখা করল। সৌমেন্দ্রবাবু বললেন, "সতেরো তলায় একটা রুমে আপনাদের থাকার ব্যবস্থা করেছি, আমাদের স্টাফ রবি কে বলছি আপনাদের রুম দেখিয়ে দেবে।"
ডিকে বলল, "আপনাকে এত ব্যস্ত হতে হবেনা। আমি আগে হর্ষবর্ধন বাবুর রুমটা দেখতে চাই।"
রিসেপশনে একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়েটির নাম লিজা। সম্ভবত গোয়ানিজ খ্রিষ্টান। বলল, "ও তো ফিফত ফ্লোর পে হে। চলিয়ে মে আপকো দিখাতি হু।"
ডিকে বলল, "আচ্ছা, চলুন।"
মেয়েটির পিছনে পিছনে ওরা ফিফত ফ্লোরে এসে পৌঁছাল। ফিফত ফ্লোরে লিফট থেকে বার হবার মুখেই একটা সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। ডিকে বলল, "এই সিসি টিভি র ফুটেজ পাওয়া যাবে?"
লিজা বলল, "জি হাঁ স্যার। জরুর মিলেগি।"
ডিকে বলল, "আচ্ছা, এখানে ড্রাগ এলাউড নয়। কিন্তু কেউ যদি বাইরে থেকে ড্রাগ নিয়ে আসে, আপনারা কিভাবে বুঝবেন?"
লিজা বলল, "ইহা কি সিকুইরিটি বহুত স্ট্রিক্ট হে। যো কাস্টমার ইহাপে আতে হে, অর যাতে হে উসকা পসিনা টেস্ট হোতা হে। আগার শরীর মে ড্রাগ হোগা তো জরুর পাতা চল যায়েগা। উসকি এলাবা ভি, হর রুম কি বাহার এক স্ক্রিন হে, যিসপে অঙ্গুলিয়া ডালকে আপকো কুচ কোড দেনা পড়তা হে, ও ভি এক তরহা কা ড্রাগস ডিটেকটর হে। অঙ্গলিও পর লাগি হুই থোড়া সা ভি পসিনাসে ও ড্রাগস কো ডিটেক্ট কর লেতা হে।"
ডিকে বলল, "বুঝলাম..."
কথা বলতে বলতে ওরা হর্ষবর্ধন বাবুর রুমের দরজার কাছে এসে পৌঁছাল। পুলিশ এখানে তদন্ত করেছে। রুমের দরজা সিল করে গিয়েছে। ভিতরে ঢোকার কোনো উপায় নেই। ডিকে বলল, "আচ্ছা, পাশের রুমটা খোলা যাবে? এখান থেকে তো ওই রুমের জানালাটা দেখা যায়।"
লিজা বলল, "জি হাঁ, কিউ নেহি? মাস্টার কি তো মেরি পাস হে। চলিয়ে দিখাতি হুঁ।"
রুম খুলে দিল লিজা। রুমের ভিতরে ঢুকে ব্যালকনির বাইরে গিয়ে দাঁড়াল ডিকে। শুভর দিকে তাকিয়ে বলল, "হর্ষবর্ধন বাবুর কাছে ড্রাগস এসেছিল হোটেলের বাইরে থেকে। হোটেলের ভিতরের এত কড়া সিকুইরিটি পেরিয়ে কেউ ড্রাগস পৌঁছাতে পারবেনা, যদি না আগে থেকেই কেউ হোটেলের ভিতরে ড্রাগস স্টক করে রাখে।"
শুভ বলল, "তাহলেও, হোটেলের ভিতর দিয়ে কোনো রুমে ড্রাগস পৌঁছানো সম্ভব নয়। যে পৌঁছাবে সে রুম থেকে ঢুকতে বেরুতে, কিম্বা এক ফ্লোর থেকে আর এক ফ্লোরে যাতায়াত করার সময় কোনো না কোনো ডিটেক্টরে ঠিক ধরা পড়ে যাবে।"
ডিকে মাথা নাড়ল। বলল," কিন্তু হর্ষবর্ধন বাবুর জানালার দিকে তাকিয়ে দেখ। জানালার বাইরে কোনো পাইপ লাইনও নেই, যে পাইপ বেয়ে কেউ ওনার কাছে ড্রাগস পৌঁছাবে।"
শুভ বলল, "কিন্তু অমিয় বাবু বা রতন বাবু যাকে দেখেছেন সে কে? আর সে কিভাবে দেওয়াল বেয়ে হাঁটতে পারে?"
ডিকে বলল, "কয়েকমাস আগে এমনই একটা ছবি ইন্টারনেটে বেরিয়েছিল। জাপানে এক ভদ্রলোককে দেওয়ালের উপরে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। যদিও ওই একবারই মাত্র দেখা যায়, আর কখনোই দেখা যায়নি, তাই বেশির ভাগ লোক ওই ছবিটাকে ফটোশপ ভেবে ইগনোর করেছিল, কিন্তু আমি খুঁটিয়ে দেখে বুঝেছি, ছবিটার মধ্যে কিছুটা হলেও সত্যতা থাকতে পারে। আর সেটা জানার জন্যই আমি আমার বান্ধবী রুপলেখাকে ইমেল করেছি। ও এখন জাপানে আছে। ও নিজে একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ। এরকম বহু কেস ও হ্যান্ডেল করেছে। আমার আশা ও খুব তাড়াতাড়িই আমাদের ইনফরমেশন দিয়ে হেল্প করবে।"
রুম থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে শুভ বলল, "এই কেসে কখনো দক্ষিণ আফ্রিকা, কখনো জাপান, অনেক ফরেন কান্ট্রির নাম পাচ্ছি। কেসটা ছোট খাটো বলে মনেহচ্ছেনা।"
ডিকে বলল, "কেস যত বড়ই হোক, সেটা আমাদের সলভ করতে হবে, আর এটাই আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ।"
(২)
প্রোজেক্টর চালু করে পুলিশ অফিসার সমীর বাবু বললেন, "আমি ছটু এক্সপার্টের সঙ্গে আপনার ভিডিও কলিং এর ব্যবস্থা করে রেখেছি। আপনি যা জানতে চান বলুন।"
শুভ বলল, "ভিডিও কলিং কেন? আমরা তো মুখোমুখিই ওকে জেরা করতে পারতাম।"
সমীর বাবু বললেন, "ও কি রকম হাই প্রোফাইল আসামি তা নিশ্চই আপনাদের অজানা নেই? ওকে স্পেশাল সেলে নিশ্ছিদ্র পাহারায় রাখা হয়েছে। সেখানে গোনাগুনতি তিন চারজন ছাড়া অন্য কারুর যাওয়া নিষিদ্ধ। একটু খুঁত পেলেই ও কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে যাবে, তাই এই ব্যবস্থা।"
ডিকে বলল, "আচ্ছা, কানেক্ট করুন ওর সঙ্গে, আমার যেটুকু জানার আছে জেনে নিই।"
সমীর বাবু মাথা নাড়লেন। কয়েক সেকেন্ড পরে ছটু এক্সপার্ট কে সেলের ভিতরে একটা চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেল। ডিকের দিকে তাকিয়ে ছটু এক্সপার্ট বলল, "কি ডিটেকটিভ সাহেব, হঠাৎ আমার কথা মনেপড়ল?"
ডিকে বলল, "আমি একটা ইনফর্মেশন জানার জন্য তোমাকে কল করেছি। একদম সত্যি কথা বলবে, কিচ্ছু লুকোবার চেষ্টা করবেনা।"
ছটু এক্সপার্ট বলল, "লুকোলে তো আর আমার সাজা কমবেনা। কি জানতে চান বলুন। আমি বলব।"
ডিকে বলল, "তুমি রাম সিং এর জলের বোতলে যে ড্রাগসটা মিশিয়েছিলে, সেটা কোথায় পেয়েছিলে?"
ছটু এক্সপার্ট বলল, "ও আচ্ছা, হুঙ্গা। সে তো বাজারে এভেলেবল। আপনি নেবেন কি কিছু আমি আপনাকে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেব।"
ডিকে বলল, "ফালতু বকবক না করে যা জিজ্ঞেস করলাম বলো।"
ছটু এক্সপার্ট বলল, "আমি ওটা মিঁয়াও এর কাছে কিনে ছিলাম। আমাদের যুধিষ্ঠির আমাকে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিল। লাইনের লোক, তাই মিঁয়াও নিজে আমাকে দিতে এসেছিল।"
শুভ বলল, "মিঁয়াও আবার কি? পোকেমনের মিঁয়াও, নাকি হুলো মিঁয়াও?"
ডিকে বলল, "মিঁয়াও টা কে?"
ছটু এক্সপার্ট বলল, "মিঁয়াও আমাদের লাইনের সব চেয়ে বড়ো ড্রাগস সাপ্লায়ার। খড়্গপুরে ওর ডেরা। বিদেশ থেকে ড্রাগস এনে গোটা ইন্ডিয়াতে ড্রাগস সাপ্লাই করে। চিন, জাপান, আমেরিকা, সাউথ আফ্রিকা সমস্ত জায়গা থেকে ড্রাগস আমদানি হয়। কোটি কোটি টাকার বিজনেস ওর।"
ডিকে বলল, "ঢাক পেটানো বন্ধ করো। মিঁয়াও কে কোথায় গেলে পাওয়া যাবে, সেটা বলো।"
ছটু এক্সপার্ট বলল, "মিঁয়াও এর ঠিকানা আমি জানিনা। কেবল শুনেছি, ওর ডেরা খড়্গপুরে। তবে বাড়িতে সে থাকেনা, থাকলে পুলিশ, গোয়েন্দা ওকে খুঁজে বার করে ফেলত। ও মেদিনীপুর খড়্গপুরেই ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ায়।"
ডিকে বলল, "তুমি তো ওর কাছে ড্রাগস নিতে গিয়েছিলে, তখন নিশ্চই ওকে দেখেছ, ও কেমন দেখতে বলো?"
ছটু এক্সপার্ট বলল, "না, আমি দেখিনি। ওর মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।"
ডিকে বলল, "এমন কিছু দেখেছ যা দেখে ওকে চেনা যাবে? একটু ভেবে বলো।"
কিছুক্ষণ ভেবে ছটু এক্সপার্ট বলল, "একটা জিনিস দেখেছিলাম। ও যখন বাইকে চড়তে যায়, তখন বাইকের আয়নায় ওর হাতটা একবার দেখেছিলাম। ওর হাতে একটা উল্কি রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছ এম এ।"
ডিকে বলল, "আচ্ছা, ঠিক আছে।"
থানা থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে শুভ বলল, "এম এ নিশ্চই মিয়াও এর নামের আদ্যক্ষর। এম দিয়ে মিঁয়াও আর এ দিয়ে আগারওয়াল, কিম্বা অম্বানি কিম্বা আচার্যর কিছু একটা।"
ডিকে বলল, "মিঁয়াও ওর নাম বলে মনেহয়না। ওর নাম মৃনাল, মহিম, মুকুলের মতো কিছু একটা। যা বিকৃত হয়ে মিঁয়াও হয়েছে।"
শুভ বলল, "এখন কোথায় যাবে?"
ডিকে বলল, "যুধিষ্ঠির কে খুঁজতে হবে, ও আমাদের মিঁয়াও এর কাছে পৌঁছে দিতে পারে। আর একবার মিঁয়াও এর কাছে পৌঁছে যেতে পারলে হোটেলে কিভাবে ড্রাগস পৌঁছাল সেই রহস্যও উদ্ধার করে ফেলতে পারব।"
শুভ বলল, "কিন্তু আমরা যুধিষ্ঠিরের কাছে পৌঁছাব কিভাবে? ওর ঠিকানাই তো আমরাই জানিনা।"
ডিকে বলল, "যে ছটু এক্সপার্টকে মিঁয়াও এর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছে তার বাড়ি ছটু এক্সপার্টের বাড়ির কাছাকাছিই হবে। আমরা ওর পাড়ায় গিয়ে খোঁজ করলে যুধিষ্ঠির কেও পেয়ে যাব আশাকরি।"
শুভ বলল, "তাহলে আর দেরি কেন? এক্ষুনি চলো। যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে কথা বলে আসা যাক।"
ওরা একটা টোটো ধরে ছটু এক্সপার্টের পাড়ায় চলে গেল। পাড়াটা বেশ ঘিঞ্জি। বাড়িগুলো গায়ে গায়ে লাগালাগি। কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করার পরে একজন বলল, "যুধিষ্ঠিরকে চিনি তবে সে তো আজ দু'মাস হল বাড়িতে নেই।"
ডিকে বলল, "কোথায় গেলে ওর খবর পাওয়া যাবে বলতে পারবেন?"
লোকটা বলল, "পাণ্ডার কাছে যান, সে সবার খবর রাখে।"
ডিকে বলল, "পাণ্ডার বাড়ি কোথায়?"
লোকটা বলল, "ওই যে রাস্তার মোড়ে ল্যাম্পপোস্টের পাশে ঝুপড়িটা দেখছেন, ওটাই পাণ্ডার বাড়ি।"
শুভ কে নিয়ে পাণ্ডার বাড়িতে গিয়ে ঢুকল ডিকে। বাড়ির ভিতরে একটা হুমদো মতো ভদ্রলোক খাটিয়াতে বসে রেডিওতে গান শুনছিল। ওদের দেখে বলল, "কি চাই?"
ডিকে বলল, "আমি পাণ্ডার কাছে এসেছি। কয়েকটা ব্যাপারে ইনফরমেশন চাই।"
লোকটা বলল, "আমিই পাণ্ডা। কি ইনফরমেশন চাই বলুন?"
ডিকে বলল, "আমি যুধিষ্ঠিরের ব্যাপারে জানতে চাই।"
পাণ্ডা বলল, "পার ইনফরমেশন পাঁচশো টাকা করে লাগবে। টোটাল ইনফরমেশন আড়াই হাজার। এক্সট্রা ইনফরমেশন আরো এক হাজার।"
পকেট থেকে দুটো দু'হাজার টাকার নোট বার করে ডিকে বলল, "কিন্তু যদি ইনফরমেশন ভুল হয়?"
পাণ্ডা বলল, "আমার ইনফরমেশন কখনো ভুল হয়না, পুলিশ, ক্রিমিনাল সবাই আমার কাছ থেকে ইনফরমেশন কিনে নিয়ে যায়।"
পাণ্ডা হাতে নোট দুটো দিয়ে ডিকে বলল, "যুধিষ্ঠিরের ব্যাপারে যা জানা আছে বলো।"
পাণ্ডা বলল, "যুধিষ্ঠিরকে দেখে ভোলাভালা লোক বলে মনেহতে পারে, কিন্তু ও একজন দাগি ক্রিমিনাল, বিখ্যাত ড্রাগ ডিলার মিঁয়াও এর ডান হাত ছিল সে। ওর ওয়েস্টবেঙ্গল সার্কেলের ব্যবসা ওই সামলাত।"
ডিকে বলল, "ছিল মানে, এখন আর নেই।"
পাণ্ডা বলল, "না, নেই। মাস দুয়েক আগে ও মিঁয়াওকে ধোকা দিয়ে ওর কয়েক কোটি টাকার মাল আর সঙ্গে একটা দামি জিনিস নিয়ে পালিয়ে যায়। এখন কম দামে বিভিন্ন জায়গায় সেই ড্রাগস সাপ্লাই করে ও মিঁয়াও এর বিজনেসে ভাগ বসাতে চাইছে।"
ডিকে বলল, "দামি জিনিসটা কি?"
পাণ্ডা বলল, "তা জানিনা। তবে সেটা বিদেশ থেকে আমদামি করা কোনো যন্ত্র। যার খোঁজে মিঁয়াও এর লোকেরা ওকে হন্যে হয়ে খুঁজছে।"
ডিকে বলল, "যুধিষ্ঠির এখন কোথায় আছে?"
পাণ্ডা বলল, "তা বলতে পারবনা। কিছুদিন আগে যুধিষ্ঠিরের খোঁজে মিঁয়াও এর লোকেরাও আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু পায়নি। আমি কেবল এটুকু হিন্ট দিতে পারি, যুধিষ্ঠির যে জায়গাতে আছে সেই জায়গাটা ছোটও নয়, আবার বড়োও নয়।"
ডিকে বলল, "আচ্ছা, আর মিঁয়াও এর ব্যাপারে কোনো ইনফরমেশন দিতে পারবেন? ও কোথায় আছে?"
পাণ্ডা বলল, "পাক্কা ইনফরমেশন আছে। ও এখন মেদিনীপুরের সাদা রঙের কোনো হোটেলে রয়েছে।"
পাণ্ডার কাছ থেকে ফিরে আসতে আসতে শুভ বলল, "মেদিনীপুরে সাদা রঙের অনেক হোটেল রয়েছে, তাদের মধ্যে কোনটাতে মিঁয়াও আছে কিভাবে খুঁজে বার করা যাবে। আর শুধু মিঁয়াওকে খুঁজলেই হবেনা। এখন আবার তার সঙ্গে যুধিষ্ঠিরকেও খুঁজতে হবে।"
ডিকে বলল, "মিঁয়াও কোথায় আছে তা নাহয় খুঁজে বার করা যাবে, কিন্তু আমার মন বলছে হর্ষবর্ধন বাবুকে ড্রাগস দেওয়ার পিছনে মিঁয়াও দায়ি নয়। এই কাজ যুধিষ্ঠিরের।"
ওরা হোটেলে ফিরে এল। ডিকেকে দেখে সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "আপনি সিসি টিভি ফুটেজের যে যে অংশ গুলো কাট করে রাখতে বলেছিলেন সেগুলো সব রেডি করে দিয়েছি। এই পেন ড্রাইভে সব সেভ করা আছে। অন্য কোনো হেল্প লাগলে বলবেন।"
ডিকে বলল, "আচ্ছা, আপনাদের রেজিস্টার খাতাটা আমি একবার দেখতে পারি? এই হোটেলে এমন কতজন আছেন, যাদের নাম এবং পদবিতে এম এবং এ অক্ষরটা আছে?"
রেজিস্টার খাতা দিয়ে লিজা বলল, "এই নিন, দেখুন না।"
খাতাটা ওল্টাল ডিকে। শুভ বলল, "তোমার কি মনেহচ্ছে মিঁয়াও এই হোটেলেই আছে?"
ডিকে বলল, "পাণ্ডার ইনফরমেশন সঠিক হলে মিঁয়াও এই হোটেলেই আছে। ও সাদা হোটেল বলতে এই হোয়াইট হাউসের কথাই বলেছে।"
শুভ বলল, "উরিব্বাস! আমরা এতবড় একজন ক্রিমিনালের সঙ্গে বাস করছি।"
রেজিস্টার খাতা চেক করতে লাগল ডিকে। শুভও তাতে চোখ বোলাল। মোট তিনজন পাওয়া গেল, যাদের নামের প্রথমে এম আর শেষে এ অক্ষরটা আছে। তাদের নাম মোহিত আনন্দ, মৃন্ময় অধিকারি, আর মনীষা অগ্রবাল। শুভ বলল, "মিঁয়াও যদি ছেলে হয় তাহলে এই দু'জনের মধ্যে কেউ হবে। এদের উপরে কড়া নজর রাখতে হবে।"
ডিকে বলল, "এই কাজটা বরং তুই কর, চেষ্টা কর মিঁয়াওকে খুঁজে বার করতে আমি ততক্ষণ দেখি যুধিষ্ঠির কে যদি কোনো ভাবে খুঁজে বার করা যায়।"
শুভ বলল, "সত্যি? আমি একা তদন্ত করব?"
ডিকে বলল, "হ্যাঁ, একেবারে সত্যি।"
(৩)
রাতে হোটেলের রুমে বসে সিসি টিভি ফুটেজ চেক করতে করতে ডিকে বলল, "হর্ষবর্ধন বাবুর রুমে যে কজন যাতায়াত করেছে, তাদের মধ্যে একটা বেয়ারাকে আমার অস্বাভাবিক লাগছে। এই বেয়ারাটাকে আমি একবারের জন্যও হোটেলে দেখিনি।"
শুভ বলল, "তাহলে কি ওই বেয়ারাটাই হারাধন বাবুর রুমে ড্রাগস পৌঁছে দিয়েছে?"
ডিকে বলল, "মনেহয়না। বেয়ারা টা লিফট দিয়ে বেরিয়ে হর্ষবর্ধন বাবুর বাবুর রুমের কলিং বেল প্রেস করেছে, প্রতিটা জায়গাতেই ড্রাগ ডিটেকটর আছে। ড্রাগ নিয়ে গেলে ধরা পড়ে যেত।"
শুভ বলল, "তাহলে?"
ডিকে বলল, "একবার সৌমেন্দ্র বাবুকে জিজ্ঞেস করতে হবে, বেয়ারাটাকে উনি চেনেন কিনা? তাহলেই বোঝা যাবে ব্যাপারটা।"
শুভ বলল, "ওকে ফোন করে ডেকে নিলেই তো কিস্যা খতম।"
ডিকে বলল, "না, ফোন করতে হবেনা, আমরাই নিচে যাচ্ছি। খাতাপত্র চেক করতে হতে পারে।"
শুভ বলল, "আচ্ছা চলো তবে।"
ওরা নিচে এসে রিসেপশনে গিয়ে সৌমেন্দ্র বাবুকে বেয়ারাটার ছবি দেখাল। সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "এই বেয়ারাটা তো আমাদের হোটেলের কেউ নয়," লিজার দিকে তাকিয়ে বললেন, "লিজা তুমি বলতে পারবে, এ কে?"
একটু গভীর মনযোগ দিয়ে ছবিটা দেখে লিজা বলল, "জি হাঁ, মে উসে পেহচানতা হুঁ, ইসকা নাম হে, যুধিষ্ঠির। কুচ দিন পেহলে বিনয়কা জাগা ইয়ে আয়া থা কাম করনে কে লিয়ে।"
ধমক দিয়ে সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "যে কেউ এলেই তুমি তাকে কাজ দিয়ে দেবে? একবারও আমাদের জানাবেনা?"
কাঁচুমাচু স্বরে লিজা বলল, "স্যার, উস দিন বিনয় মুঝে ফোন করকে কাঁহা উসকা তবিয়ত কুচ ঠিক নেহি হে, তো ও উসকা এক দোস্ত কো ভেজ রহা হে উসকা জাগা। মে নে শোচা হোটেলমে স্টাফ থোড়া কম হে, তো..."
সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "হোটেলে স্টাফ কম বলেই অচেনা একজনকে কাজে লাগিয়ে দেওয়া যাবে। তোমাদের বুদ্ধিকেও বলিহারি!" ডিকের দিকে তাকিয়ে বললেন, "কেন? এই লোকটা কি কিছু সমস্যা করেছে?"
ডিকে বলল, "আমার অনুমান এই লোকটাই হর্ষবর্ধন বাবুর কাছে ড্রাগস পৌঁছে দিয়েছে। আর কেবল হর্ষবর্ধন বাবু নয়, এই হোটেলের এমন আট দশ কাস্টমারের কাছে ও রেগুলার ড্রাগস পৌঁছে দেয়।"
চোখ কপালে তুলে সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "কিন্তু কিভাবে? আমাদের হোটেলের সিকুইরিটিতে কি কোনো ফাঁক আছে?"
ডিকে বলল, "না, আপনার হোটেলের সিকুইরিটি ঠিকঠাকই আসে। ড্রাগস আসে বাইরে থেকে, কিভাবে সেটা আশাকরি আজ রাতের মধ্যেই জানতে পেরে যাব।"
সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "আচ্ছা, যত তাড়াতাড়ি জানতে পারেন, ততই মঙ্গল, নাহলে আরো কয়েকটা জীবন হয়তো এভাবেই শেষ হয়ে যাবে।"
ডিকে মাথা নাড়ল। বলল, "এই বিনয়ের ঠিকানা আমি পেতে পারি?"
বিনয়ের ঠিকানা দিয়ে লিজা বলল, "সব কুচ মেরি গলতি হে সাব, ইস যুধিষ্ঠির কো আপ ছোড়না নেহি, নেহি তো মে খুদকো কভি মাফ নেহি কর সাকুঙ্গি।"
আশ্বাস দিয়ে ডিকে বলল, "চিন্তা কোরোনা। যুধিষ্ঠির ঠিক ধরা পড়ে যাবে।"
রাত দেড়টার দিকে ডিকের ধাক্কায় ঘুম ভেঙে গেল শুভর। ডিকের দিকে তাকিয়ে মালুম হল সে এখোনো ঘুমোয়নি। বলল, "কি হল? এত রাতে ঘুম থেকে তুললে?"
ডিকে বলল, "চল, একটা আশ্চর্য জিনিস দেখাব।"
ডিকের পিছনে পিছনে ব্যালকনিতে বেরিয়ে এল শুভ। বলল, "কি আশ্চর্য জিনিস?"
ডিকে বলল, "কথা না বলে চারদিকে চুপচাপ নজর রাখ। কিছুক্ষনের মধ্যে দেখতে পাবি।"
ডিকের কথামত চারদিকে নজর রাখতে শুরু করল শুভ। হোটেলের বাইরে একটা সুইমিংপুল রয়েছে। তারপাশে রয়েছে একটা ছোট খাটো বাগান। কিছুক্ষন পরে বাগানের একটা ঝোঁপের ভিতরে নড়াচড়া শুরু হল। তারপর ঝোঁপের ভিতর থেকে একটা লোক বেরিয়ে হোটেলের লনে উঠে এল। ফিসফিস করে শুভ বলল, "এত রাতে ওই লোকটা লনে কি করছে? গার্ডের নজর এড়িয়ে লোকটা হোটেলে ঢুকলই বা কিভাবে?"
ডিকে বলল, "কথা না বলে চুপচাপ দেখে যা।"
শুভ মাথা নাড়ল। লোকটা ইতিমধ্যেই হোটেলের কাছাকাছি চলে এসেছে। এরপর যা হল সেটা দেখে শুভর নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হতে শুরু করল। হোটেলের কাছে এসে লোকটা দেওয়ালে একটা পা রাখল, তারপর গিরগিটি যেভাবে দেওয়ালে চড়ে সেভাবে হোটেলের দেওয়াল বেয়ে লোকটা উপরে উঠতে লাগল। না, চারহাতে পায়ে নয়, কেবল দুটো পায়ের উপরে ভর করে দেওয়ালের উপরে হাঁটতে হাঁটতে। দেখে মনেহল লোকটা যেন দেওয়ালে উপরে ছুটে বেড়াচ্ছে। অভিকর্ষজ তরনের কোনো প্রভাব যেন ওর উপরে হচ্ছেনা। খানিকক্ষণ এ জানালা সে জানালা ঘুরে লোকটা যখন ফিরে গেল, তখন হুঁশ ফিরল শুভর। বলল, "এ আমি কি দেখলাম? এটা স্বপ্ন না সত্যি?"
ডিকে বলল, "যা দেখলি সবই সত্যি। ফোনটা দে। সৌমেন্দ্র বাবুকে ফোন করে হোটেল থেকে ড্রাগ উদ্ধারের ব্যবস্থা করি।"
শুভ মাথা নাড়ল। ফোন নিয়ে সৌমেন্দ্র বাবুকে রুম নাম্বারের ডিটেলস জানাল ডিকে। কথা শেষ হতে শুভর দিকে তাকিয়ে বলল, "তুই খুব চমকে গেছিস দেখছি। আমি কিন্তু চমকাইনি। তুই যাকে মানুষ বলে ভাবছিস ও আসলে কোনো মানুষই না, ও একটা রোবট, আর টিকটিকির মতো ওর পায়েও বায়ুথলী রয়েছে, যার সাহায্যে ও দেওয়ালে আটকে থাকে, তাছাড়া দেওয়ালে চড়ার আগে ওর মোমেন্টাম ওকে দেওয়ালে ঘুরে বেড়াতে সাহায্য করে।"
শুভ বলল, "কিন্তু এসব কথা তুমি কিভাবে জানলে?"
ডিকে বলল, "কাল রূপলেখার ইমেল এসেছিল জাপান থেকে। ও জানিয়েছে এই রোবট জাপানে আবিষ্কার করা হয়। আবিষ্কারক বিজ্ঞানী টেস্ট করার জন্য তাকে একবার শহরে ছেড়েছিলেন, তখনই ওর ছবি কেউ তুলে নেয়। এরপর ওই বিজ্ঞানী খুন হয়ে যায়, আর রোবট টিও হারিয়ে যায়। কেউ জানতনা রোবট টা কোথায় আছে, যদি না আমরা এই হোয়াইট হাউসে তদন্ত করতে আসতাম।"
শুভ বলল, "কিন্তু রোবটটা এই মেদিনীপুরে এসে পৌঁছাল কিভাবে?"
ডিকে বলল, "জাপান থেকে রোবটটা কোনো তেলবাহী জাহাজে চালান হয়ে হলদিয়া তে আসে। সম্ভবত মিঁয়াও এই রোবটটাকে নিজের কাজে লাগাবে বলে কিনেছিল। কিন্তু ওর ডান হাত যুধিষ্ঠির ওকে ধোকা দিয়ে এই রোবট আর কয়েক কোটি টাকার ড্রাগস চুরি করে হাপিস হয়ে যায়। সেই ড্রাগসই এখন হোটেলে পৌঁছাচ্ছে।"
শুভ বলল, "এসব কথা তুমি জানলে কিভাবে?"
ডিকে বলল, "এটা কিছুটা অনুমান আর কিছুটা প্রমান নির্ভর। যাইহোক, যুধিষ্ঠির কোথায় আছে, সেটা আমি বুঝে নিয়েছি, কাল সকালেই সেখানে যাব।"
শুভ বলল, "কোথায় আছে? আর সেটা বুঝলেই বা কিভাবে?"
ডিকে বলল, "হিন্ট তোর কাছেও আছে, চেষ্টা কর, তাহলে তুইও বুঝতে পারবি।"
পরদিন সকালে শুভ কে নিয়ে হোটেল থেকে বেরুচ্ছিল ডিকে। হঠাৎ অমিয় বাবু ওদের দেখে এগিয়ে এলেন। বললেন, "কেস তো সমাধান করে ফেলেছেন বলে মনেহচ্ছে, কাল রাতে হোটেল থেকে ড্রাগসও উদ্ধার করেছেন শুনলাম।"
ডিকে বলল, "হ্যাঁ, প্রায় সমাধান করে ফেলেছি।"
অমিয় বাবু বললেন, "এখন কোথায় যাচ্ছেন? যুধিষ্ঠিরকে ধরতে নাকি?"
ডিকে বলল, "হ্যাঁ, অনেকটা সেরকমই। যদি ধরতে নাও পারি ওর ডেরাটা একবার ঢুঁ মেরে আসব।"
অমিয় বাবু বললেন, "আপনাদের যদি আপত্তি না থাকে, আমি কি আপনাদের সঙ্গে যেতে পারি?"
ডিকে বলল, "আপত্তি কেন থাকবে? চলুন না আমাদের সঙ্গে, আমাদের একজন সঙ্গীও বাড়বে।"
একটা টোটো ভাড়া করে ওরা তিনজনে মেজোবাজারে এসে উপস্থিত হল। শুভ বলল, "এখানে কেন এলে? তোমার কি মনেহয় যুধিষ্ঠির এখানেই আছে?"
ডিকে বলল, "পাণ্ডা কি বলেছিল মনে আছে? পাণ্ডা বলেছিল যুধিষ্ঠির এমন একটা জায়গায় আছে যে জায়গাটা বড়োও নয়, আবার ছোটও নয়। অর্থাৎ মেজো বাজার। কাল লিজার কাছে বিনয়ের যে ঠিকানা পেলাম সেটাও এই মেজো বাজারের। তাছাড়া ওই রোবট দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কাজ করে। হোয়াইট হাউস থেকে বিনয়ের বাড়িও দেড় কিলোমিটারের মধ্যে, জিপিএস লোকেশন তাই বলছে। তাই দুয়ে দুয়ে চার করতে দেরি করিনি..."
শুভ বলল, "ও আচ্ছা। তারমানে এখানে বিনয়ের বাড়িতে বসে ওর কাজ করছে যুধিষ্ঠির।"
ডিকে বলল, "হ্যাঁ, আমার তাই অনুমান। চল আজ ওর খেল খতম করি।"
শুভ বলল, "চলো।"
কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করে ওরা বিনয়ের বাড়িতে এসে পৌঁছাল। বাড়িতে ঢোকার আগে শুভ বলল, "রিস্ক নেওয়া বোধহয় উচিৎ হবেনা। আমার মনেহয় যুধিষ্ঠির কোনো ভাবে টের পেয়েছে আমরা ওর বাড়িতে যাচ্ছি। তাই আমাদের পিছনে লোক লাগিয়েছে।"
ডিকে বলল, "তুই কিভাবে বুঝলি?"
শুভ বলল, "হোটেল থেকে বেরুবার সময় কিছু লোককে আমাদের পিছনে দেখেছিলাম, বাড়ির আশেপাশেও সেই লোকগুলোকে দেখলাম। দেখে মনেহল আমাদের দিকেই নজর রাখছে।"
অমিয় বাবু বললেন, "আমি যতদূর জানি যুধিষ্ঠিরে বিনয় ছাড়া অন্য কোনো সঙ্গী নেই, তাই যাদের দেখেছেন তারা যুধিষ্ঠিরের লোক নয় বলেই আমার ধারনা। চলুন ভিতরে ঢোকা যাক।"
ডিকে বলল, "আপনার উৎসাহ বেশ বেশি দেখছি।"
অমিয় বাবু বললেন, "প্রথম বার কোনো ডিটেকটিভের সঙ্গে এডভেঞ্চারে আসছি, উৎসাহ তো থাকবেই।"
ডিকে বলল, "নাহলে কেউ এই বয়সে হাতে ট্যাটু করে?"
অমিয় বাবু বললেন, "সেটাও দেখে নিয়েছেন দেখছি। হ্যাঁ, ওটা কম বয়সে বানিয়েছিলাম, এখোনো থেকে গিয়েছে।"
দরজার কাছে গিয়ে টোকা মারল ডিকে। একটা কালো মোটামতো লোক দরজা খুলে দিল। ডিকের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল, "কে আপনারা? কাকে চাই?"
ডিকে বলল, "যুধিষ্ঠির আছে?"
লোকটার মুখ সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে গেল। বলল, "আপনারা কে?"
ডিকে উত্তর দিলনা। লোকটাকে ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢুকে পড়ল। বারান্দা পেরিয়ে একটা রুমে যেতেই দেখতে পেল সিসি টিভি ফুটেজে দেখা লোকটা হাতের কাছে বেশ কয়েকটা বাক্স নিয়ে টাকা গুনছে। ডিকেকে দেখেই ওর মুখ শুকনো হয়ে গেল। তোতলাতে তোতলাতে বলল, "কে আপনারা?"
ডিকে বলল, "তোমার ব্যবসা খতম যুধিষ্ঠির। আজ ডিটেকটিভ ডিকের হাতে তুমি ধরা পড়ে গেছ।"
নিজেকে সামলে নিয়ে যুধিষ্ঠির উঠে দাঁড়াল। বলল, "যুধিষ্ঠিরের খেল খতম করতে কেউ পারেনি। মিঁয়াও পর্যন্ত পারেনি। আর তুই চুটে মুটে ডিটেকটিভ আমাকে এরেস্ট করবি?"
ডিকে কিছু বলতে যাচ্ছিল, তার আগেই যুধিষ্ঠির চিৎকার করল, "এরিগাতো, কিল দেম..."
ঘরের কোনায় একটা কিছুর উপরে কাপড় ঢাকা দেওয়া ছিল। জিনিসটা সঙ্গে সঙ্গে নড়ে চড়ে উঠল। তারপর ভিতর থেকে হোটেলের লনে দেখা মানুষটা বেরিয়ে ডিকে দের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। শুভ চিৎকার করল, "রোবট এটাক।"
রোবটটা কাছাকাছি আসতেই পকেট থেকে বেশ কয়েকটা মার্বেল বার করে ওর পায়ের দিকে গড়িয়ে দিল শুভ। রোবটের পায়ের তলায় ঢুকে যেতেই রোবট টা এদিক ওদিক কয়েকবার হেলে দুলে মাটির উপরে আছড়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে রোবটের গায়ে ঝাপিয়ে পড়ে রোবটটার কান মুচড়ে ওকে শান্ত করে দিল ডিকে। রোবটকে এভাবে কাবু হয়ে যেতে যুধিষ্ঠিরের মুখ শুকনো হয়ে গেল। কোমরে গোঁজা পিস্তল বার করে ডিকে দিকে তাক করে সে বলল, "রোবটের হাত থেকে নাহয় বেঁচে গেলি, এটার হাত থেকে কিভাবে বাঁচবি?"
ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখল শুভ। অমিয় বাবুর হাতের একটা কেরামতিতে যুধিষ্ঠিরের শরীরটা শূন্যে উঠে দড়াম মাটিতে আছড়ে পড়ল, আর ওর পিস্তলটা উঠে এল অমিয় বাবুর হাতে। তারপরেই দুম করে একটা শব্দ। অমিয় বাবুর পিস্তলের একটা গুলি যুধিষ্ঠিরের শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেল। তারিফ করার সুযোগ শুভ পেলনা। কারন পিস্তলটা এবারে উঠে দাঁড়ানো ডিকের দিকে তাক করা। অমিয় বাবু বললেন, "নিন রোবটাকে আস্তে আস্তে আমার হাতে তুলে দিন, ওটা আমার সম্পত্তি।"
ডিকে বলল, "বে আইনি ভাবে কেনা জিনিস কারুর সম্পত্তি হতে পারেনা। শুভ কুইক।"
আর লেট করলনা শুভ। অমিয় বাবুর হাত লক্ষ্য করে ঝেড়ে একটা লাথ চালাল। অমিয় বাবুর হাতের পিস্তলটা একপাশে ছিটকে পড়ল। হাসতে হাসতে অমিয় বাবু বললেন, "আমার হাত থেকে নাহয় তোমরা বেঁচে যাবে, কিন্তু বাইরে আমার দলের লোকেদের হাত থেকে বাঁচবে কিভাবে?"
ডিকে বলল, "সে ব্যবস্থাও আমি করে রেখেছি। সমীর বাবু...?"
ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই শুভ দেখল কয়েকজন কনস্টেবল কে নিয়ে রুমে এসে ঢুকলেন কোতোয়ালি থানার পুলিশ অফিসার সমীর বাবু। কনস্টেবল দের হাতের রাইফেল অমিয় বাবুর দিকে তাক করা। ডিকের দিকে তাকিয়ে তারিফের সুরে বললেন, "গুড জব ডিকে। আপনার এই অবদান পুলিশ অনেক দিন মনে রাখবে। যে কুখ্যাত ডিলার মিঁয়াওকে ধরতে সারা ভারতের পুলিশের কাল ঘাম ছুটে যাচ্ছে তাকে এত সহজে আপনি ধরে ফেলবেন এটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল।"
ডিকে বলল, "আমরা তো এখানে যুধিষ্ঠির কে ধরতে এসেছিলাম, ও তো উপরি হিসাবে জুটে গেল। আপনাদেরও ধন্যবাদ, আমার একটা সিগন্যাল পেতেই পুরো ফোর্স নিয়ে এখানে হাজির হবার জন্য।"
সমীর বাবু বললেন, "এ তো আমাদের ডিউটি।"
সেদিন বিকেলে হোটেলের লবিতে বসে গল্প জুড়েছিল ডিকে। ম্যানেজার বাবু এমনকি লিজাও কেসের আদ্যোপান্ত জানার জন্য উদগ্রীব হয়েছিল। মেদিনীপুর সংবাদ পত্রিকার রিপোর্টার এসেছে। এই প্রথম বার কোনো পত্রিকার রিপোর্টার ডিকের কাছে এল। ডিকের এই এডভেঞ্জারের ঘটনা নিয়ে তারা একটা রিপোর্ট লিখতে চায়। কেসের সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে শোনার পরে সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "আমাদের হোটেলে এতদিন ধরে একটা কুখ্যাত অপরাধি বসে আছে, আমরা জানতেই পারলাম না, আপনি এই কদিন এসেই কিভাবে জেনে ফেললেন?"
শুভ বলল, "আমারও প্রশ্ন সেটাই, তুমি কিভাবে জানলে অমিয় বাবুই আসলে মিঁয়াও?"
ডিকে বলল, "ছটু এক্সপার্ট মিঁয়াও এর ব্যাপারে কি বলেছিল মনে আছে কি তোর?"
শুভ বলল, "হ্যাঁ, মনে আছে। ও বলেছিল মিঁয়াও এর হাতে একটা উল্কি রয়েছে, তাতে লেখা রয়েছে এম এ। কিন্তু অমিয় বাবুর হাতে লেখা রয়েছে এ এম, অমিয় মাইতির সর্ট ফর্ম। দুটো পুরোপুরি আলাদা, তাছাড়া কারুর হাতে উল্কি থাকলেই যে সে মিঁয়াও হবে তারও কোনো গ্যারেন্টি নেই।"
ডিকে বলল, "হ্যাঁ, সেটা ঠিক। কিন্তু আর একটু ভাল করে ভেবে দেখ, ও উল্কিটা কোথায় দেখেছিল?"
একটু ভেবে শুভ বলল, "কোথায় দেখেছিল? বাইকের আয়নায়। উরিব্বাস! এবারে বুঝে গেছি।"
সৌমেন্দ্র বাবু বললেন, "কিন্তু আমরা তো বুঝতে পারলাম না।"
ডিকে বলল, "আমরা যখন ছটু এক্সপার্টের কাছে যাই ও আমাদের বলেছিল সেও মিঁয়াও কে দেখেনি। এমনকি ও এমনই ছদ্মবেশে থাকে, ওর নিজের ডান হাত যুধিষ্ঠিরও ওকে চিনতে পারেনি, তাহলে আমরা কিভাবে চিনলাম? ছটু এক্সপার্ট আমাদের বলেছিল, সে বাইকের আয়নায় মিঁয়াও এর হাতে একটা উল্কি দেখেছিল, যাতে লেখা আছে এম এ। যা সম্ভবত ওর আসল নামের সর্ট ফর্ম। আমি তখনই বুঝে গিয়েছিলাম ওর নামের আসল সর্টফর্ম এ এম। আয়নায় পার্শীয় পরিবর্তনের জন্য আপনি ডান হাত কে বাম হাত আর বাম হাতকে ডান হাত দেখবেন, ঠিক একই ভাবে এ এম কে দেখবেন এম এ। তারপর পাণ্ডার কাছে জানলাম মিঁয়াও এই হোটেলেই আছে, আর অবশেষে হোটেলের রেজিস্টার চেক করে দেখলাম, এ এম সর্ট ফর্মের একজন মানুষই আছে এই হোটেলে তিনি হলেন অমিয় মাইতি।"
ডিকের কথা শেষ হতেই হাত তালি দিয়ে উঠলেন সৌমেন্দ্র বাবু। বললেন, "দুর্দান্ত! এই নাহলে ডিটেকটিভ। আপনার জন্য আমার তরফ থেকে একটা ছোট্ট গিফট রয়েছে।"
বলে পকেট থেকে চেক বুক বার করে খসখস করে একলক্ষ টাকার একটা চেক ডিকের নামে লিখে দিলেন।
(সমাপ্ত)






