অলীক রমণ
শঙখ শুভ্র নায়ক
"অনেক দিন হয়ে গেল, আমি আর তোমার কোনো কথা শুনবনা, আজ তোমাকে দিতেই হবে," কিছুটা উত্তেজিত স্বরেই বলল সৌমিক।
"প্লিজ স্যার, একটু বোঝার চেষ্টা করুন, আমার বাবা হাস্পাতালে। কখন কি হয়ে যায়, তার ঠিক নেই, আমাকে চব্বিশঘণ্টা দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। নাহলে কি আমি আপনাকে কখনো না বলেছি?" রুমা বোঝাবার চেষ্টা করল।
জোর দিয়ে সৌমিক বলল, "একটানা পনেরো দিন উপবাসি আছি, আজ মোটেই সহ্য করতে পারছিনা। আজকে আমার চাইই চাই।"
রুমা বলল, "প্লিজ স্যার আজ রাতটা একটু কম্প্রোমাইজ করে নিন, কাল আমি শিওর যাব আপনার কাছে।"
সৌমিকের মাথা গরম হয়ে গেল। বলল, "আমার আজকেই চাই। ভুলে যেওনা, তোমার বাবা যখন অসুস্থ ছিল, আর তুমি অপারেশনের জন্য টাকা চেয়ে এসেছিলে, আমি কিন্তু তোমাকে আজ কাল করে ঘোরাইনি। তুমি যেদিন চেয়েছ, সেদিনই দিয়েছি, আজ তুমি কথার খেলাপ করলে..."
রুমা বলল, "আচ্ছা, স্যার কোথায় যেতে হবে বলুন?"
সৌমিক বলল, "জায়গাটা তো তুমি জানো, ফরেস্ট কটেজ।"
রুমা বলল, "ওকে স্যার, বাবার রাতের দিকে কোনো বাড়াবাড়ি না হলে আমি হার্ট অ্যান্ড সোল যাওয়ার চেষ্টা করব।"
সৌমিক বলল, "আচ্ছা, তাহলে আমি এগোচ্ছি ওখানে। তুমি কিন্তু রাতের মধ্যেই আসবে।"
রুমা বলল, "অফ কোর্স স্যার।"
রুমা ফোন কেটে দেওয়ার পরে গাড়ি নিয়ে রেডি হয়ে গেল সৌমিক। একটা মাল্টি ন্যাশন্যাল কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার সে। রুমা ওর পি এ। সৌমিকের কাছে সে যখন চাকরি চেয়ে এসেছিল, সৌমিক ওকে প্রস্তাব দিয়েছিল, অফিসের পাশাপাশি ওকে ওর শরীরের ব্যাপারের খেয়াল রাখতে হবে। সে কথা মেনে নিয়েছিল রুমা। এখন এই খেয়াল রাখার রাখার কাজটা রুমা এতটাই ভালভাবে করে যে, বেতনের পাশাপাশি বাড়তি অনেক সাহায্যও সৌমিক ওকে করতে বাধ্য হয়। রুমা কথা দিলে সাধারণত কথার খেলাপ করেনা, আজ রাতের মধ্যে না এলেও কাল সকালে আসবেই একথা ভাবতে ভাবতেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল সৌমিক।
ওর বাড়ি থেকে ফরেস্ট কটেজের দূরত্ব প্রায় আধঘন্টার। ইমেজ নষ্ট হওয়ার ভয়ে এসব কাজ সে বাড়িতে করেনা। তাছাড়া কোনো গোপন মিটিং করতে হলেও ওই ফরেস্ট কটেজটাকেই বেছে নেয়। রাস্তার বুক চিরে ওর গাড়িটা উদ্দাম গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। দুপাশের গাছগাছালি গুলো যেন এক অজানা আশঙ্কা বুকে চেপে দাঁড়িয়ে ছিল নিশ্চুপ। জঙ্গলের ভিতরে আলগোছে পাখনা মেলছিল চাঁদের আলো। হঠাৎ সে ক্যাঁচ করে ব্রেক কষল। একটা বেশ বড়ো সড়ো পাখি কোথা থেকে গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনের উপরে ডানা ঝাপটে আছড়ে পড়েছে। কি ওটা? দেখে খানিকটা বাদুড়ের মতো লাগছে। কাঁচের উপরে বসে এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে বাদুড়টা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। কী শিহরণ জাগানো দুটো চোখ। লাল টুকটুকে মরা মানুষের মতো। সৌমিকের বুকটা ধড়াস করে উঠল। ভয়ে গাড়ি চালিয়ে দিল সে। একটা বাঁকের কাছে এসে বনবন করে হ্যাণ্ডেলটা ঘোরাতেই ব্যালেন্স রাখতে না পেরে বাদুড়টা ছিটকে পড়ল পাশের মাঠে, তারপর ডানা ঝটপটিয়ে আকাশে উড়ে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ফরেস্ট কটেজে পৌঁছে গেল সৌমিক। আসার সময় আর কোনো বিপত্তি হয়নি। চাবি খুলে সে কটেজে গিয়ে ঢুকল। খুব সুন্দর ভাবে ডেকোরেট করা এই কটেজটা। একপাশের তাকে থরেথরে বিদেশী মদের বোতল। মাঝে একটা সেন্টারটেবিল। তার দুপাশে দুখানা চেয়ার। এখোনো ওর হাত পা তিরতির করে কাঁপছে। বাদুড়টার চোখ দুটো ওর চোখের সামনে ভেসে উঠছে বার বার। ওই চোখ দুটো যেন ওর ভীষণ চেনা। তাক থেকে একটা মদের বোতল বার করে সে টেবিলে বসে পড়ল। ছিপি খুলে একটা গ্লাসে এক পেগ ঢেলে নিল। লাল তরলটা গলায় ঢালতেই মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল। মনের ভিতর থেকে সব ভয় কেটে গিয়ে শরীরে জেগে উঠল একটা পৈশাচিক উল্লাস।
বছর তিনেক আগে এই কটেজেই শেষ বার স্নেহাকে আদর করেছিল সৌমিক। স্নেহা ছিল ওর পার্সোনাল সেক্রেটারি। রুমার মতো স্নেহাকেও ওর শরীরের খেয়াল রাখার দায়িত্ব দিয়েছিল সে। কিন্তু এই খেয়াল রাখতে গিয়ে যে স্নেহা নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়বে একথা সে ভাবেনি। সেদিন যখন স্নেহা বলেছিল সে প্রেগন্যান্ট তখন স্নেহাকে বার বার বুঝিয়েছিল এই সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার জন্য, কিন্তু স্নেহা শোনেনি। বলেছিল, "তুমি যদি দায়িত্ব নিতে না চাও না নেবে, আমি একাই মানুষ করে তুলব আমার সন্তানকে।"
মনেমনে মুচকি হেসেছিল সৌমিক। আজ যে বলছে দায়িত্ব নিতে হবেনা, কাল অর্থের অভাব পড়লে সে'ই এই সন্তানকে দিয়ে ওকে ব্ল্যাকমেল করবেনা তার নিশ্চয়তা কি? যতই হোক সন্তান তো ওরই, মেডিকেল চেকাপ করলে তার শরীরে ওরই ডি এন এ মিলবে।
সেদিন আদর শেষে স্নেহার দিকে তাকিয়ে সৌমিক বলেছিল, "আজ আমি তোমাকে কিছু গিফট দিতে চাই।"
ওর দিকে অবাক ভাবে তাকিয়ে স্নেহা বলেছিল, "কি গিফট?"
ব্যাগের ভিতর থেকে মুক্তোর পেনডেন্ট দেওয়া পাঁচ ভরি সোনার হারটা বার করেছিল সৌমিক। হারটা দেখে খুশিতে ওকে জড়িয়ে ধরেছিল স্নেহা। বলেছিল, "তুমি আমাকে এত ভালবাসো আমি কখনো ভাবিনি।"
সৌমিক বলেছিল, "এসো হারটা তোমার গলায় পরিয়ে দিই।"
পিছন ঘুরে দাঁড়িয়েছিল স্নেহা। ধীরে ধীরে ওর কাছে এগিয়ে গিয়েছিল সৌমিক। হারটাকে ওর গলায় পরিয়ে ফাঁসের মতো টান লাগিয়েছিল। এই হারটাই হয়ে উঠেছিল স্নেহার মৃত্যু ফাঁস। শ্বাস বন্ধ হয়ে এসেছিল স্নেহার। পা দুটো বলির পাঁঠার মতো থরথর করে কাঁপছিল। চোখ দুটো ঠিকরে বেরিয়ে এসেছিল। অবশেষে জিভ বার করে ওর শরীরের উপরে এলিয়ে পড়েছিল স্নেহা। ওকে এই জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে গিয়ে পুঁতে দিয়েছিল সে। অনেক খুঁজেও স্নেহার ডেডবডি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। কিন্তু আজ কি দেখল সে? সেই বাদুড়টার চোখ দুটো যে স্নেহার মতোই দেখতে ছিল। মরার আগে ওর দুটো তো এমনই ঘোলাটে হয়ে গিয়েছিল।
জানালার গ্রিলে একটা ঝড়ঝড় শব্দ হতেই চমকে জানালার দিকে তাকাল সৌমিক। সেই বাদুড়টা আবার এসেছে। কাঁচের উপরে ডানার ঝাপটা মারছে। উফ! কি ভয়ানক। মনেহচ্ছে ওই ডানার ঝাপটায় এক্ষুণি ঝনঝন করে ভেঙে পড়বে জানালার কাঁচ। ভয়ে ওর বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল। তাড়াহুড়ো করে কটেজের হিডেন ড্রয়ার থেকে পিস্তলটা বার করল সে। জানালার দিকে তাক করে রেডি রইল। বাদুড়টা অবশ্য বেশিক্ষণ রইলনা, কিছুক্ষণ ঝটপট করার পরে উড়ে চলে গেল।
এবারে নিশ্চিন্ত ভাবে আরো একটা পেগ গলায় ঢালল সৌমিক। মন থেকে ভয়টা তাড়ানোর চেষ্টা করল। স্নেহাকে সে নিজের হাতে পুঁতে এসেছে জঙ্গলের মাঝে। ওর ডেডবডিটা হয়তো পঁচে গলে আজকে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। আত্মা, পুনর্জন্ম কোনোটাতেই বিশ্বাস করেনা সৌমিক, তাই বাদুড়টা যে স্নেহা নয়, এ ব্যাপারে সে নিশ্চিত। জঙ্গলে গাড়ির উপরে যে বাদুড়টা আছড়ে পড়েছিল সেটা হয়তো আলাদা বাদুড় ছিল, আর এটা আলাদা বাদুড়। আলো দেখতে পেয়েছে, তাই বাড়ির কাছে ছুটে এসেছে।
আপাতত রুমা কি করছে একবার খোঁজ নিয়ে দেখা যাক। বেড থেকে নিজের মোবাইলটা হাতে তুলে নিল সৌমিক। ফোন করতে গিয়ে দেখল টাওয়ার নেই। ধুর! ফরেস্ট রেঞ্জ বলে এখানে সব সময় মোবাইলের টাওয়ার থাকেনা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল রাত এগারোটা বাজে। রুমা কখন আসবে কে জানে? আরো একটা পেগ গলায় ঢেলে বিছানায় শুয়ে পড়ল সৌমিক। ছায়ার মতো রাত বাড়তে লাগল ধীরেধীরে। ঘড়ির কাঁটার জমতে লাগল ভয়। বাইরে জোনাকির আলো এক মায়াবি বিষণ্ণতায় ঢেকে রাখল গাছ গুলোকে। ঘন ঘন শোনা যেতে লাগল ঝিঁ ঝিঁ র ডাক।
শুয়ে শুয়ে একটু ঝিমিয়ে পড়েছিল সৌমিক, হঠাৎ দরজায় কারুর টোকার শব্দ পেতেই বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল রাত একটা বাজে। টলতে টলতে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখতে পেল সামনে রুমা দাঁড়িয়ে আছে। বলল, "স্যার, একটু লেট হয়ে গেল। বাবাকে ঘুম পাড়িয়ে এলাম।"
সৌমিক বলল, "ইটস ওকে। নো প্রবলেম, তুমি কথা রেখেছ এটাই অনেক। ভেতরে এসো।"
ঘরের ভিতরে ঢুকল রুমা। ভিতর থেকে দরজা এঁটে চেয়ারে বসে পড়ল সৌমিক। রুমা বলল, "স্যার বেশিক্ষণ থাকতে পারবনা, যা করার তাড়াতাড়ি করুন।"
সৌমিক বিরক্ত হল। বলল, "উফ! এত অধৈর্য হচ্ছ কেন? দাঁড়াও নেশাটা একটু চড়াই, তারপর করছি।"
মাথা নেড়ে বিছানায় গিয়ে বসল রুমা। গ্লাসে আরো এক পেগ মদ ঢেলে চুমুক দিতে দিতে রুমার কাছে এগিয়ে এল সৌমিক। ওর থুতনিটা ধরে উপরে তুলল। তারপর ঠোঁটে চুমু দিতে গিয়েই থমকে গেল। রুমার চোখগুলো কী অদ্ভুত! ঠিক যেন মরা মানুষের দুটো চোখ। মুচকি হেসে রুমা বলল, "কি হল স্যার? থামলেন কেন?"
"কিছু না," বলে একবার মাথা ঝাঁকাল সৌমিক। সম্ভবত নেশাটা মাথায় চড়ে গেছে। তারই ঘোরে এসব উল্টোপাল্টা দেখছে। ঠোঁট নামিয়ে সে রুমার ঠোঁটে চুমু দিল। সঙ্গে সঙ্গেই ওর বুকটা ধড়াস করে উঠল। কী শক্ত আর ঠান্ডা দু'খানা ঠোঁট। মনেহল, সে যেন ঠোঁটে নয়, একটা করোটিতে চুম্বন করল। গ্লাসটাকে টেবিলে নামিয়ে রুমার পাশে গিয়ে বসল সৌমিক। রুমা বলল, "কি হল স্যার, এরকম ঘাবড়ে গেলেন কেন?"
সৌমিক বলল, "না, কিছু না..."
সৌমিককে ধরে বিছানায় শুইয়ে দিল রুমা। বলল, "একটু ফোর প্লে করে দিই স্যার, আপনার সব টেনশন নিমিষে গায়েব হয়ে যাবে।"
মাথা নাড়ল সৌমিক। ওর শার্টের বোতাম খুলে ওর সারা শরীরে শৃঙ্গার করতে লাগল রুমা। ওর চুম্বনের মধ্যে সেই কোমল স্পর্শ না পেলেও এক মানসিক প্রশান্তিতে ওর শরীর উদ্বেল হয়ে উঠল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বলল, "আর পারছিনা, এবারে খোল..."
রুমা মাথা নাড়ল। বলল, "আচ্ছা, স্যার। আপনি একটু উল্টোদিকে তাকান, নাহলে আমার লজ্জা লাগবে।"
মাথা নেড়ে উল্টোদিকে তাকাল সৌমিক, ঠিক তখনই ওর মোবাইলটা বেজে উঠল। টাওয়ার এল বোধহয়। ফোনটা একসেপ্ট করল সৌমিক। বলল, "হ্যালো, কে বলছেন?"
উল্টোপাশ থেকে রুমা বলল, "স্যার, আমি রুমা বলছি। কতক্ষণ ধরে আপনার ফোনে ট্রাই করছি, লাগছেই না।"
সৌমিকের বুকটা আরো একবার ধড়াস করে উঠল। তোতলাতে তোতলাতে বলল, "রু..রু..রুমা মানে? তুমি কোথায়?"
রুমা বলল, "এই তো স্যার হাস্পাতালে, সরি স্যার। বাবার রাতের দিকে আরো একবার বাড়াবাড়ি হয়েছিল, তাই যেতে পারলাম না।"
কী যেন বলতে চাইল সৌমিক। পারলনা। পিছন থেকে একটা কণ্ঠস্বর বলে উঠল, "আই অ্যাম রেডি মাই লাভ। এবারে আমার দিকে তাকাও।"
এই কণ্ঠস্বরটা সে চেনে। স্নেহা ঠিক এভাবেই কথা বলত। কাঁপতে কাঁপতে পিছন ফিরে তাকাল সৌমিক। ওর শিরদাঁড়া দিয়ে যেন একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। ওর পিছনে দাঁড়িয়ে আছে একটা আস্ত নরকঙ্কাল। কোটরাগত চোখ দুটো যেন দপ দপ করে জ্বলছে। গলায় ঝুলছে ওরই দেওয়া সেই মুক্তোর পেনডেন্ট ঝোলানো সোনার হার, যেটা তাড়াহুড়োতে সে স্নেহার গলা থেকে খুলে নিতে ভুলে গিয়েছিল। ভয়ার্ত গলায় সৌমিক বলে উঠল, "তু.. তু..মি...? তুমি কেন এসেছ এখানে?"
মুচকি হেসে কঙ্কালটা বলল, "তোমাকে আমার কাছে নিয়ে যেতে এসেছি ডার্লিং। তোমাকে ছাড়া একা একা থাকতে যে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।"
সৌমিক বলল, "আমি যেতে চাইনা, তুমি প্লিজ এখান থেকে চলে যাও।"
কঙ্কালটা বলে উঠল, "তা বললে কি হয় ডার্লিং? তোমাকে ছাড়া যে আমি অসম্পূর্ণ। এসো ডার্লিং আজ তোমাকে জীবনের চরম আদর টুকু করে দিই।"
সৌমিক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল। বিড়বিড় করে বলে উঠল, "না, না, প্লিজ, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি ভুল করেছিলাম, প্লিজ ক্ষমা করে দাও..."পারলনা। তার আগেই কঙ্কালটা ওর শরীরের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর ঠোঁটে চেপে ধরল নিজের শক্ত দু'খানা ঠোঁট। ইস্পাত কঠিন আঙুল গুলোকে বুলিয়ে দিতে লাগল ওর সর্বাঙ্গে। ফোনের অন্য প্রান্তে তখনও রুমা বলে চলেছে, "হ্যালো, স্যার শুনতে পাচ্ছেন? হ্যালো হ্যালো..."
পুনশ্চঃ- পরদিন সকালে ফরেস্ট কটেজ থেকে পুলিশ সৌমিকের ডেডবডি আবিষ্কার করে। রাতে ফোনে সৌমিকের চিৎকার শুনে রুমাই পুলিশকে খবর দিয়েছিল। কটেজে ঢুকে পুলিশ দেখতে পায় নগ্ন অবস্থায় একটা নরকঙ্কালকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে সৌমিক। এই কঙ্কালটা সৌমিকের কাছে কিভাবে এল তা জানা যায়নি, তবে পুলিশের অনুমান এই কঙ্কালটা বছর তিনেক আগে নিঁখোজ হয়ে যাওয়া সৌমিকের পার্সোনাল সেক্রেটারি স্নেহার, সৌমিকের বিরুদ্ধে যাকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু প্রমাণাভাবে সৌমিক ছাড়া পেয়ে যায়। সৌমিকের মৃত্যু ঠিক কিভাবে হয়েছে, তা ফরেন্সিক পরীক্ষা না হলে বলা সম্ভব নয়, তবে ওর শরীরে ক্ষতের কোনো চিহ্ন ছিলনা, কেবল চোখ দুটো ছিল বিস্ফারিত। দেখে মনেহচ্ছিল প্রচন্ড ভয়ে হার্টফেল করে সৌমিক মারা গিয়েছে।
(সমাপ্ত)
©All rights reserved to sankha subhra nayak

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন