বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

অশুভ দৃষ্টি

অশুভ দৃষ্টি

শঙখ শুভ্র নায়ক




সকাল থেকেই বৃষ্টি পড়ছিল। শহরের পাশের নালাগুলোতে প্রায় হাঁটু অবধি জল। শাল, মহুল, বকুল গাছের পাতাগুলো ভিজে চুপ্পুস হয়ে নেতিয়ে পড়ছে। দুটো কুকুর কাঁই কুঁই করতে করতে আশ্রয় নিয়েছে ট্যানেলের তলায়। মাঝখানে মিনিট পনেরোর জন্য বৃষ্টি থামতেই সাইকেল নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন অসীম বাবু, হঠাৎই আবার আকাশ ঝেঁপে ঝমঝমঝম… কাকভেজা হয়ে একটা কারশেডের তলায় দাঁড়িয়ে পড়লেন উনি। ইস! মস্ত ভুল হয়ে গিয়েছে। ছাতাটা বাড়িতেই উনি ফেলে এসেছেন। হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন সাড়ে দশটা বাজে। বৃষ্টি বেশিক্ষণ ধরে চললে স্কুলে ঢুকতে লেট হয়ে যাবে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালেন অসীম বাবু। তখনই দেখতে পেলেন একটা মেয়ে স্পিডে সাইকেল চালিয়ে কারশেডের তলায় এসে ঢুকল। মেয়েটার গায়ের স্কুল ড্রেস ভিজে পুরো সপসপ করছে। তাঁকে দেখে খানিকটা দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে সে। ওখানে বৃষ্টির ঝাপটা এসে লাগছে মেয়েটার গায়ে। সিগারেটখানা শেষ করে বহমান জলের স্রোতে সেটাকে ছুঁড়ে দিয়ে মেয়েটার দিকে তাকালেন অসীম বাবু। মেয়েটার বয়স সম্ভবত এগারো বারো। সম্ভবত তাঁর স্কুলেরই ছাত্রী। ঢালু চুল। গোল মুখ। ঠোট দুটো লাল লাল। বেশ মিষ্টি লাগছে মেয়েটাকে। টিনের ছাউনির তলায় দাঁড়িয়ে হু হু করে কাঁপছে মেয়েটা। গায়ের লোম গুলো খাড়াখাড়া হয়ে গিয়েছে। কি যেন বলতে যেতেই মেয়েটা তাঁর দিকে একবার ফিরে তাকাল। এবারে মেয়েটার শরীরটা তাঁর বেশ নজরে পড়ল। বেশ হৃষ্টপুষ্ট চেহারা। গায়ের রঙ ফর্সা। সাদা স্কুল ড্রেসটা পুরো ভিজে গিয়েছে বলে স্কুল ড্রেসের তলা থেকে মেয়েটার সদ্য ফোটা স্তনগুলো উঁকি মারছে। অসীম বাবুর মনের মধ্যে টেনশন শুরু হল। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললেন, "তুই আমার স্কুলেই পড়িস?"
মেয়েটা মাথা নাড়ল। বলল, "হ্যাঁ, স্যার। ক্লাস সিক্সে।"
অসীম বাবু বললেন, "ওখানে দাঁড়িয়ে ভিজছিস কেন? এদিকে আয়।"
মেয়েটা গুটিগুটি পায়ে অসীম বাবুর দিকে এগিয়ে এল। পকেট থেকে রুমাল বার করে অসীম বাবু বললেন, "কি নাম তোর?"
মেয়েটা বলল, "আমার নাম রূম্পা, রূম্পা সান্যাল।"
অসীম বাবু মাথা নাড়লেন। মেয়েটার একটা হাত ধরে সস্নেহে মেয়েটাকে কাছে টেনে এনে, মেয়েটার মাথার চুলগুলো মুছিয়ে দিতে দিতে বললেন, "পুরো ভিজে গেছিস তো? এরকম ভেজা অবস্থায় বেশিক্ষণ থাকলে তো ঠান্ডা লেগে যাবে।"
রূম্পা বলল, "হঠাৎ ঝমঝম করে বৃষ্টি নামিয়ে দিল, বুঝতে পারিনি, ছাতা বার করার সময়ই পেলাম না।"
রূম্পার মাথা মুছতে মুছতে ওর ড্রেসের ফাঁক দিয়ে স্তনগুলোকে একটা উঁকি মেরে দেখে নিলেন অসীম বাবু। উফ! স্তনগুলো কি ফর্সা! স্তনের উপরে কালো রঙের তিল। আর বাদামি রঙের বোঁটা। এখোনো কোনো হাত পড়েনি এই স্তনে। বললেন, "আজ আর স্কুলে যেতে হবেনা, বাড়িতে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে যদি সময় থাকে তবেই ক্লাসে আসবি।"
রূম্পা বলল, "কিন্তু স্যার স্কুল কামাই হলে যে প্রেজেন্ট কাটা যাবে। শরীর খারাপের জন্য চারদিন স্কুলে আসতে পারিনি।"
হাতটাকে নিচের দিকে নামিয়ে এনে মেয়েটার স্তনগুলোকে একবার স্পর্শ করে দেখে নিলেন অসীম বাবু। উফ! কি সাইজ মাইরি! সত্যিই বানিয়েছে বলতে হবে মেয়েটা! এটাকে এক হাত চেখে না নিলে তাঁর জীবনটাই বৃথা রয়ে যাবে। বললেন, "তোদের ফার্স্ট ক্লাস আমার আছে, প্রেজেন্ট নিয়ে তোকে ভাবতে হবেনা। তোর প্রেজেন্ট আমি করে দেব। তুই বাড়ি যা।"
রূম্পা মাথা নাড়ল। বলল, "আচ্ছা স্যার।"

বৃষ্টি ধরে এসেছে। রাস্তা দিয়ে লোকজনেরও যাতায়াত শুরু হয়েছে। তাঁর হাত ছাড়িয়ে মেয়েটা রাস্তায় নেমে গেল। সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে অসীম বাবুর বুকের ভিতরটা ঢিপঢিপ করতে লাগল। এই পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সেও শরীরের মধ্যে এত গরম এর আগে তিনি অনুভব করেননি। এখনো তাঁর জাঙিয়ার ভিতরে তাঁর অস্ত্রটা তাঁকে খোঁচা মারছে। তাঁর স্ত্রী রোহিণী অনেকদিনই সৌন্দর্য হারিয়েছেন। মোনোপজ হয়ে গিয়েছে তার। এখন আর ওর প্রতি কোনো আকর্ষণ অনুভব করেননা অসীম বাবু, কিন্তু আজ এই বাচ্চা মেয়েটাকে দেখে তাঁর শরীরে যেন যৌবন ঘাই মারতে লাগল।

সাইকেল নিয়ে বাড়িতে ফিরে এল রূম্পা। ওকে দেখেই ওর মা সুনন্দা বললেন, "কি রে ফিরে এলি?"
রূম্পা বলল, "হঠাৎ বৃষ্টি নামাল, ভিজে গিয়েছিলাম, তাই স্যার বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন।"
সুনন্দা বললেন, "চারদিন স্কুল কামাই হয়েছে মনে আছে তো? কাল আবার নাচের ক্লাসের একজাম আছে?"
রূম্পা বলল, "স্যার বলেছেন, আমার অ্যাটেন্ডেন্স উনি দিয়ে দেবেন।"

রুমে ঢুকে ড্রেস চেঞ্জ করতে করতে রূম্পা ভাবল, কেন সব স্যার অসীম বাবুর মতো হয়না? স্যারটা কি ভালো! ওর মাথা মুছিয়ে দিলেন। আর অ্যাটেডেন্সও দিয়ে দেবেন বললেন।

দিন দুই পরে রূম্পা স্কুলে আসতেই ওকে থার্ড পিরিয়ডের পর টিচার্স রুমে দেখা করতে বললেন অসীম বাবু। আজ কমিউনিটি হলে থার্ড পিরিয়ডের পর একটা টিচার্স মিটিং রয়েছে। শরীর খারাপের অজুহাতে ওটাতে তিনি যাবেন না আগেই বলে রেখেছেন, তখন টিচার্স রুম পুরো ফাঁকা থাকবে। মেয়েটাকে চটকে নেবার এই সুযোগ। ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে যত একটার দিকে এগিয়ে চলল অসীম বাবুর মনের মধ্যে ততই টেনশন হতে লাগল। ঢং ঢং করে স্কুলের ঘন্টা পড়ার শব্দটাকেও তাঁর নিজের হৃদপিন্ডের আওয়াজ বলে মনেহল।
"স্যার, আসব?" রূম্পার ডাকে সামনে দিকে চোখ তুলে তাকালেন অসীম বাবু। হৃদপিন্ডের ধিকধিক শব্দটা যেন তিনি নিজেই শুনতে পাচ্ছেন। একবার গলা খাঁখারি দিয়ে বললেন, "হ্যাঁ, আয়…"
রুমে ঢুকে রূম্পা তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। বলল, "কিছু বলছিলেন স্যার?"
মনের মধ্যে কনফিডেন্স আনার চেষ্টা করলেন অসীম বাবু। এই মুহূর্তে রূম্পার নিতম্বটা তাঁর নাগালের মধ্যে রয়েছে। বললেন, "হ্যাঁ, বলছিলাম। সেদিন বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীর-টরির খারাপ হয়নি তো?"
রূম্পা বলল, "না স্যার। কাল নাচের ক্লাসে একজাম ছিল তাই আসিনি।"
রূম্পার পিঠে হাত রাখলেন অসীম বাবু। বললেন, "ওটা নিয়েই আমার টেনশন হচ্ছিল, তাই তোকে ডাকলাম। আচ্ছা, তোর কি শরীর খারাপ হয়েছিল বললি ক'দিন আগে?"
রূম্পা একটু থমকে গেল। বাচ্চা হলেও সে কিছু কিছু জিনিস বোঝে। বলল, "স্যার, মেয়েদের যে শরীর খারাপ হয় সেটাই হয়েছিল।"
হাতটাকে ধীরেধীরে রুম্পার নিতম্বের উপরে নামিয়ে আনলেন অসীম বাবু। উফ! যেন একখানা তানপুরাতে হাত রেখেছেন। নিতম্বের ভাঁজে আঙুলগুলোকে নিপুন কায়দায় শুইয়ে দিতে দিতে বললেন, "তারজন্য ইস্কুলে না আসার কি আছে? শরীর খারাপ হলেও তো অনেক মেয়ে স্কুলে আসে।"
রূম্পা একটু নড়ার চেষ্টা করল। বলল, "স্যার, আমার এই প্রথম প্রথম তো, তাই পেটে ভীষণ যন্ত্রনা হয়।"
হাত দিয়ে নিতম্বের উপরে আস্তে আস্তে চাপ দিতে দিতে অসীম বাবু বললেন, "আচ্ছা, তোর শরীর খারাপ হলে যাতে প্রেজেন্ট কামাই নাহয় সেই ব্যবস্থা আমি করব, তোর কোন কোন ডেটে শরীর খারাপ হয় বল?"
রূম্পা বলল, "স্যার আগে দু'বার বাইশ তারিখেই শুরু হয়েছিল, পরের বার ওরকমই হবে বোধহয়।"
অসীম বাবুর মনেহল তিনি যেন তুলোর নরম বালিশের উপরে চাপ দিচ্ছেন। প্রথম প্রথম রোহিনীর নিতম্ব মর্দন করে এমনই আরাম পেতেন তিনি। তবে আজকাল ওর নিতম্ব চুপসে পোড়া বেগুনের মতো হয়ে গিয়েছে। বললেন, "তোকে ভাবতে হবেনা, পরের বার থেকে তুই স্কুলে আসতে না পারলে তোর প্রেজেন্ট আমি করে দেব।"
রূম্পা বলল, "থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।"
বাইরে কাদের যেন গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। রূম্পার পিছন থেকে হাত সরিয়ে অসীম বাবু বললেন,  "থ্যাঙ্ক ইউ দিতে হবেনা, তুই এখন যা, যদি প্রোয়োজন হয় আবার ডাকব তোকে।"
"আচ্ছা স্যার", বলে চলে গেল রূম্পা।

ফস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন অসীম বাবু। নিচে হাত দিয়ে দেখলেন তাঁর আন্ডারপ্যান্ট চ্যাটচ্যাট করছে। চেয়ার ছেড়ে উঠে উনি বাথরুমে গেলেন। উফ! এই মেয়েটাকে দেখলে তাঁর হৃদয়ে যেন হিল্লোল ওঠে। না চাইতেই খাড়া হয়ে যায় তাঁর পুরুষাঙ্গ। ওর কাছে উনি থ্যাঙ্ক ইউ চাননা, যা চান তা তিনি সময় হলে ঠিক আদায় করে নেবেন।

ক্লাস রুমে ফিরতে ফিরতে রূম্পার কেমন একটু যেন লাগছিল। অসীম স্যার ওকে আদর করতে করতে ওর কোথায় কোথায় যেন হাত দিচ্ছিলেন। ধ্যাত! এসব কি ভাবছে সে? স্যার কত ভাল! ওর শরীর খারাপ হলেও অ্যাটেনডেন্স দিয়ে দেবেন বলেছেন। আর স্যার ওকে ভালবাসেন বলেই তো ওকে আদর করছিলেন। না, স্যারকে নিয়ে খারাপ কথা সে মোটেই ভাববে না।

আজ শনিবার। তায় আবার অনেক বাড়িতে পুজো। স্কুলে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা একেবারেই কম। টিচার্সরাও সবাই আসেননি। স্কুলে ঢুকেই অসীম স্যারের সঙ্গে রূম্পার দেখা হয়ে গেল। আজকাল উনি ওর সঙ্গে একটু বেশিই কথা বলেন। ক্লাসে পড়া না পারলেও ওকে কিছু বলেন না। সকলের সামনে ওর প্রশংসা করেন। স্যার, সত্যিই খুব ভাল। সেও আজকাল সাহস পায় স্যারের কাছে অনেক কিছু বলে ফেলার। স্যারই ওকে সাহস দেন। স্যারকে দেখেই বলল, "স্যার, আজ আপনার বাড়িতে পুজো নেই?"
অসীম বাবু বললেন, "না, তোর বাড়িতে নেই?"
রূম্পা বলল, "না স্যার। তবে কাল থেকে আমি স্কুলে আসতে পারবনা তিন চারদিন।"
অসীম বাবু বললেন, "কেন রে?" তারপর কী যেন ভেবে বললেন, "ও আচ্ছা, তোর শরীর খারাপ শুরু হবে?"
রূম্পা মাথা নাড়ল। খানিকক্ষণ কী যেন ভাবলেন অসীম বাবু। তাঁর অতৃপ্ত চাহিদা পূরণ করার এটাই মোক্ষম সুযোগ। আজ টিচার্সরাও সেভাবে কেউ নেই। তাছাড়া স্কুলটাও ছুটি হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। কিন্তু কোনো ঝামেলা হবে নাতো? তারপরেই ভাবলেন, স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল সর্বানী ম্যাডামের সঙ্গে তার যা সম্পর্ক তাতে ঝামেলা হলেও উনি তা সামলে দিতে পারবেন। এক সময় এই সর্বানী ম্যাডামের বাড়িতে রেগুলার যাতায়াত ছিল ওনার। কতবার সর্বানীর স্বামী বাইরে থাকায় ওনাকে যৌন পরিতৃপ্তি দিয়েছেন, তার কি ঠিক আছে? আজ বয়স হয়েছে বলে কি উনি অকৃতজ্ঞ হয়ে যাবেন? মোটেই না। আর তখনকার কিছু গুপ্ত চিঠিও তো তার কাছে রয়েছে। ট্যাঁ ফোঁ  করার চেষ্টা করলে ওগুলো দেখিয়েই দাবড়ে পারবেন। মনেমনে নিজের তারিফ করলেন অসীম বাবু। আজ পর্যন্ত কোনো কাঁচা কাজ তিনি করেননি। রূম্পার দিকে তাকিয়ে বললেন, "আচ্ছা, তোকে ভাবতে হবেনা, তোর অ্যাটেডেন্স যাতে কামাই নাহয় সে ব্যবস্থা আমি করব। তুই একবার স্কুল ছুটির পরে আমার সঙ্গে দেখা করিস।"
রূম্পা মাথা নাড়ল। দেখতে দেখতে ছুটির ঘন্টা বেজে গেল। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা হৈ হৈ করে বাড়ি ফিরে গেছে। টিচার্সরাও প্রায় সকলেই চলে গিয়েছে। টিচার্সরুমে ঢুকে অসীমবাবুর কাছে এসে দাঁড়াল রূম্পা। প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম এই মাত্র চলে গেলেন, কেরানীকে বলে গেলেন চাবি দিয়ে যেতে। এই স্কুলের কেরানী মনোরঞ্জন বাবু অসীম বাবুর পেয়ারের লোক। তাছাড়া উনি পার্টির সঙ্গে যুক্ত বলে কেউ ওনাকে কিছু বলতে পারেনা। মনোরঞ্জনের দিকে তাকিয়ে অসীম বাবু বললেন, "ওহে মনোরঞ্জন, তোমার সব রুমগুলো চাবি দেওয়া হয়ে গিয়েছে?"
মনোরঞ্জন মাথা নাড়ল। বলল, "হ্যাঁ, স্যার।"
অসীম বাবু বললেন, "তাহলে চাবিটা আমাকে দিয়ে যাও। আমি একটু পরে যাব। কিছু কাজ আছে, আর এই মেয়েটাকেও কিছু বুঝিয়ে দিতে হবে। তুমি বাড়ি চলে যাও। যাওয়ার পথে আমি তোমার রুমে চাবিটা দিয়ে যাব।"
মনোরঞ্জন মাথা নাড়ল। টেবিলে চাবিটা দিয়ে সে চলে গেল। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিল রূম্পা। দাঁড়িয়ে থাকতে ওর বিরক্ত লাগছিল, কে জানে, স্যার কী বলবেন, কতক্ষণ লেট করবেন? বেশি লেট হলে ওর মা আবার চিন্তা করবে। কিন্তু স্কুলের কাজকর্ম সে এর আগে এইভাবে দেখেনি, তাই কৌতূহলও হচ্ছিল।

দেখতে দেখতে স্কুল পুরো ফাঁকা হয়ে গেল। কয়েকটা কাকের ডাক ছাড়া এখন কিছুই শোনা যাচ্ছেনা। ছাত্র ছাত্রীদের জ্বালায় যে পাখিগুলো স্কুলে তিষ্টোতে পারতনা সেগুলো এখন মাটিতে নেমে এসে খুপে খুপে খাবার খাচ্ছে। চেয়ার ছেড়ে উঠে গেলেন অসীম বাবু। টিচার্স রুমের দরজায় ভিতর থেকে খিল এঁটে রূম্পার দিকে তাকালেন। রূম্পা বলল, "বলুন স্যার? কেন ডাকলেন?"
অসীম বাবু বুকের ভিতরটা ধুকপুক করতে লাগল। রূম্পার কাছে এগিয়ে এসে ওর কাঁধে হাত রেখে বললেন, "তোর প্রেজেন্ট করব বলে ডেকেছি।"
রূম্পা বলল, "আচ্ছা স্যার।" বলে কাঁধ ঝাঁকিয়ে উঠল। অসীম বাবু বললেন, "একদম নড়বিনা, যেমন দাঁড়িয়ে আছিস, সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাক।"
রূম্পা বলল, "সুড়সুড়ি লাগছে স্যার।"
নিজের হাতগুলোকে রূম্পার কাঁধ থেকে বুকের উপরে নামিয়ে এনে অসীম বাবু বললেন, "প্রথম প্রথম একটু সুড়সুড়ি লাগবে, তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।"
দুই হাতে রূম্পার স্তনগুলোকে চটকাতে লাগলেন অসীম বাবু। ব্যাথা পেয়ে রূম্পা বলে উঠল, "কি করছেন স্যার এসব? আমার ভীষণ ব্যাথা লাগছে।"
অসীম বাবু উত্তর দিলেন না। ওনার শরীর আর ওনার বশে নেই। ওনার দুটো চোখ লাল হয়ে গিয়েছে, মুখটাও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। শরীরে যেন কারেন্ট বইছে। খাড়া হয়ে উঠেছে ওনার পুরুষাঙ্গ। রূম্পার নিতম্বের ভাঁজে নিজের পুরুষাঙ্গটাকে গুঁজে দিয়ে আবেগি গলায় উনি বললেন, "প্লিজ সোনা একটু সহ্য করে নাও। আজ বহুদিন ধরে আমি উপবাসী। তোমার মধ্য দিয়ে নিজের কাম চরিতার্থ করি।"
রূম্পার বেশ কষ্ট হচ্ছিল। কেঁদে উঠে বলল, "আর পারছিনা স্যার। ভীষণ যন্ত্রনা হচ্ছে। ছাড়ুন আমাকে।"
উত্তর না দিয়ে রূম্পার প্যান্টের ডোর খুলে ফেললেন অসীম বাবু। ওকে ঠেলে টেবিলের উপরে শুইয়ে প্যান্টিটাকে নামিয়ে পায়ের ফাঁকে পুরুষাঙ্গটাকে গুঁজে দিতে দিতে বলল, "আর একটু সোনা। আর একটু সহ্য করে নাও। তারপর তুমি যা বলবে আমি শুনব…"
রূম্পার তলপেটে জ্বালা হচ্ছিল। সে বুঝে নিয়েছে স্যার এত সহজে ওকে ছাড়বেন না। এই মুহূর্তে ওর ভীষণ ভাবে মনেপড়ছিল ওর মায়ের কথা। কাঁদতে কাঁদতে বলল, "মা গো, বাঁচাও আমাকে…"
রূম্পার পায়ের ফাঁকে প্রবল বেগে নিজের পুরুষাঙ্গটাকে ঘর্ষণ করে চলেছেন অসীম বাবু। এক অনাবিল তৃপ্তিতে ভরে উঠছে তাঁর সর্বাঙ্গ। রূম্পার শরীরের ছোট্ট ফাটলের মধ্যে পুরুষাঙ্গটাকে জোর করে গুঁজে দিতে দিতে বললেন, "আর একটু সোনা, প্লিজ আর একটু সহ্য করে নাও…"
রূম্পার যন্ত্রনা অসহ্য হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে ওর শরীরটাকে চিরে একটা কিছু প্রবল বেগে ভিতরে ঢুকে পড়তে চাইছে। সে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, "মা গো মা, মরে গেলাম…."
ওর দুচোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে উঠছে ওর। স্যারের 'উফ! আফ!' দানবীয় চিৎকার শুনতে শুনতে কান দুটো ভোঁ ভোঁ করছে। ওর মনেহল এই অবস্থায় বেশিক্ষণ থাকলে হয়তো সে বাঁচবেনা।

দড়াম! দরজায় প্রথম বার ধাক্কার পরেই রূম্পার শরীর থেকে ছিটকে সরে এলেন অসীম বাবু। দড়াম! দড়াম! দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাক্কার পরেই দরজাটা ভেঙে পড়ল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে অসীম বাবু দেখলেন দু'জন মহিলা কনস্টেবলকে নিয়ে তিন-চারজন লোক টিচার্স রুমে এসে ঢুকল। অসীম বাবু পালাবার চেষ্টা করতেই একজন লোক এসে ওনার হাত মুচড়ে ওনাকে মেঝেতে আছড়ে ফেলল। লেডি কনস্টেবল দু'জন ততক্ষণে রূম্পার দিকে এগিয়ে গিয়েছে। রূম্পাকে ঢাকা দিয়ে টেবিল থেকে সরিয়ে আনতে আনতে একজন বলল, "তোমার লাগেনি তো বেশি?"
রূম্পা তখনও ভয়ে কাঁপছে। কাঁপতে কাঁপতেই বলল, "স্যার যখন খারাপ কাজগুলো করছিলেন তখন খুব যন্ত্রনা হচ্ছিল, এখন একটু কম।"
লেডি কনস্টেবল বলল, "চলো, তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। কোনো চিন্তা করতে হবেনা, সব ঠিক হয়ে যাবে।"
কনস্টেবল দিদিদের সঙ্গে গাড়িতে চাপতে চাপতে রূম্পা দেখলে পেল দু'জন আঙ্কেল অসীম বাবুকে পিছমোড়া করে বেঁধে গাড়িতে তুলছে। ওনার মুখ তখনও ভয় আর বিষ্ময়ে ফ্যাকাশে।

সিটে বসে ভীষণ কান্না পাচ্ছিল অসীম বাবুর। উফ! তিনি এভাবে ধরা পড়ে যাবেন মোটেই ভাবেন নি। তিনি তো পারফেক্ট প্ল্যান বানিয়েছিলেন, তাহলে কে খবর দিল এদের? এদের দেখে তো পুলিশ বলেও মনেহচ্ছেনা। পুলিশের উর্দির সঙ্গে এদের পোশাকের অনেক প্রার্থক্য আছে। আর থাকতে পেরে প্রশ্নটা করেই ফেললেন, "আপনারা কারা? আমার খবর আপনারা কিভাবে পেলেন? আমি তো…?"
সামনে বসে থাকা ভদ্রলোক হেসে বললেন, "এত জেনে আপনি কি করবেন?"
অসীম বাবু বললেন, "আমি তো যা শাস্তি পাওয়ার পাব, কিন্তু এটা না জানতে পারলে আমি যে মানসিক ভাবেও ভীষণ যন্ত্রনা পাব।"
ভদ্রলোক বললেন, "আমরা চাইল্ড কেয়ার ডিপার্টম্যান্ট থেকে আসছি। সেফ চাইল্ড ফ্রম অ্যাবিউশিং নামে একটা গোপন প্রোজেক্টের উপরে আমরা কাজ করছি। এই প্রোজেক্টে আমরা রূম্পা সহ প্রায় সাড়ে তিনশো জন শিশুর উপরে ন্যানো ডিএনএ চিপস লাগিয়েছিলাম। যাতে তারা কোনোভাবে কোনো শারীরিক নির্যাতন বা যৌনহয়রানীর শিকার হলে আমাদের রাডারে তার সিগন্যাল ধরা পড়ে যায় আর আমরা সাথে সাথে সেখানে পৌঁছে যেতে পারি। এই চিপস এতই সূক্ষ যে তা প্রায় লোমকুপের মধ্যেই আটকে থাকতে পারে, আর নার্ভ থেকে তথ্য নিয়ে পাঠাতে পারে। যে কারনে কারুর কোনো ক্ষতি হয়না। এই প্রোজেক্ট এখোনো পরীক্ষামূলক ভাবে চলছে, এবং খুব সফলও হয়েছে।আমরা ইতিমধ্যে চারটা শিশুকে যৌনহয়রানি থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছি, আর আপনি তো সব লিমিট পার করে দিলেন। আর কয়েকবছরের মধ্যে সরকারি ভাবে আমরা এই প্রোজেক্ট লঞ্চ করব, এবং আরো অনেক বেশি চাইল্ড কেয়ার ইউনিট তৈরি করব, যাতে আর কোনো শিশুকে আপনাদের মতো জানোয়ারদের হাতে নির্যাতিত এবং ধর্ষিত হতে না হয়।"
ফস একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন অসীম বাবু। ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা সব দ্রুত পিছনে ছুটে চলেছে। তাঁর ভাগ্যটাই খারাপ। তিনি বুঝতেই পারেননি পৃথিবীটা কি দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

(সমাপ্ত)
©All rights reserved to sankha subhra nayak

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন