বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

চোরের উপরে বাটপাড়ি

চোরের উপরে বাটপাড়ি 

শঙখ শুভ্র নায়ক




স্টেশনের ফার্স্টক্লাস ওয়েটিংরুমে বসে থাকা শহুরে বাবুর ব্যাগ খানা দেখেই জীভে জল ঝরছিল সুধীনের। উফ! কী সুন্দর কালো আর চকচকে ব্যাগ! শহুরে বাবু যেভাবে বুকের কাছে আগলে আগলে ব্যাগখানা রাখছিল তাতে বুঝে গিয়েছিল ব্যাগের ভিতরে নিশ্চই দামি কিছু মালকড়ি আছে। এইসব ব্যাগগুলো হাতাতে না পারলে ওর মতো ছিঁচকে চোরের চলবে কিভাবে? ন্যাটাকে তক্ষুণি ফোন করে ডেকে নিয়েছিল। এই লাইনে ন্যাটাই ওর হেল্পার। যদিও ওরও স্বাধীন বিজনেস আছে। ন্যাটা পকেটমারি লাইনের লোক। তবে এই লাইনে ন্যাটা ওকে হেল্প করে। তার বদলে মালের বখরা ওকেও দিতে হয়।

যাইহোক, ন্যাটা আসতেই গোটা প্ল্যানটা ওকে পাই টু পাই বুঝিয়ে দিল সুধীন। হিসেব মতোই ন্যাটা হকার সেজে মশলামুড়ির প্যাকেট নিয়ে গেল ভদ্রলোকের কাছে, গিয়ে ডিস্টার্ব করতে লাগল, "বাবু, নিন না একটা। আমার ঝাল-ঝাল, মুখোরোচক মশলা মুড়ি।"
ব্যাগটাকে সাইডে নামিয়ে রেখে ভদ্রলোক বললেন, "দরকার নেই, তুমি যাও।"
ন্যাটা তবুও ডিস্টার্ব করতে লাগল, "বাবু, এমন মুখোরোচক মুড়ি আপনি এই শহরে অন্যকোথাও পাবেন না। একবার খেলে এর টেস্ট আপনি ভুলতে পারবেন না। নিন না বাবু এক প্যাকেট।"
বেশ কিছুক্ষণ বকবক করার পরে ভদ্রলোক বাধ্য হয়ে এক প্যাকেট কিনলেন। ততক্ষণে সুধীরের কাজ হয়ে গেছে। ব্যাগ নিয়ে সে ততক্ষণে ভোকাট্টা। মুড়ি দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ন্যাটাও বেরিয়ে এল। ভদ্রলোকের যতক্ষণে হুঁশ হবে, ততক্ষণে সেও 'মার মার প এ আকার' হয়ে যাবে।

ব্যাগ খানা চুরি করতে পেরে সুধীনের মনটা খুশিতে ডগমগ করে উঠল। বেশ ভারী একখানা ব্যাগ। ব্যাগটা এমন ভাবে সিল করা সহজে খোলা,যায়না। সমস্ত ধরনের চাবি লাগিয়ে সে দেখেছে। কিন্তু ব্যাগটা খুলতে পারেনি। অবশেষে ব্যাগটাকে নিয়ে ঘরে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিল।

হাতে একটা মস্তবড় রুই মাছ ঝুলিয়ে বাড়িতে ফিরল সুধীন। ওর হাতে চকচকে ব্যাগখানা দেখেই মাছওয়ালা বুঝে গেছে সে আজ বড়সড় একটা দাঁও মেরেছে, তাই অন্যদিনের মতো গজগজ না করে মাছ দিয়ে দিয়েছে থলেতে।

ঘরে ঢুকেই বৌকে উদ্দেশ্য করে সুধীন বলল, "কোথায় গেলে গো, এই দেখ আধকেজি ওজনের রুইমাছ এনেছি, একটু ভাল করে বাটনা দিয়ে বানিও তো। বেশ জুত করে খাওয়া যাবে।"
মুখ ঝামটা দিয়ে সুধীনের বউ বলল, "কি এমন কেতাত্থ করে এলে শুনি? বাড়িতে শাক ভাত জোটেনা, আর উনি মাছ ভাত খাওয়ার নোলা করছেন।"
সুধীন বলল, "আজ যা এনেছি না, তাতে বোধহয় আমাদের অনেক দিন মাছ ভাত চলে যাবে। তুমি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখোনা একবার।"
রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল সুধীনের বউ। সুধীনের হাতের ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে বলল, "কি আছে ওই ব্যাগে?"
সুধীন বলল, "কি আছে জানিনা, তবে যা আছে তা মন্দ কিছু নয়।"
সুধীনের বউয়ের চোখ চকচক করে উঠল। বলল, "সোনা দানা আছে নাকি?"
সুধীন বলল, "হতেও পারে। যেভাবে ভদ্রলোক ব্যাগটাকে আঁকড়ে ধরেছিল, তাতে সোনাদানা থাকাটা বিচিত্র নয়।"
খুশি খুশি মনে মাছটাকে নিয়ে রান্না করতে চলে গেল সুধীনের বউ। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে সে একটু ভাতঘুম দেবার জন্য রেডি হচ্ছিল হঠাৎ গ্যাসকাটার নিয়ে ন্যাটা ঘরে এসে ঢুকল। বলল, "গুরু কাটার এনেছি, ব্যাগ খুলতে আর সমস্যা হবেনা।"
সুধীন মাথা নাড়ল। দু'জনে কাটার দিয়ে বহুকষ্টে ব্যাগটাকে কেটে ফেলল। কিন্তু ব্যাগ খুলে ভিতরে উঁকি মারতেই হতাস হতে হল সুধীনকে। ভিতরে সোনা দানা কিচ্ছু নেই, বরং ব্যাগের ভিতরে রয়েছে একখানা কালো রঙের চুমকি বসানো পোশাক। মাথায় হাত দিয়ে মেঝেতে বসে পড়ল সুধীন। গজগজ করতে ন্যাটা বলল, "এই একখানা পোশাকের জন্য আমরা এত পরিশ্রম করলাম। ছি! আজ সারাদিনটাই মাটি হয়ে গেল।"
সুধীন  বলল, "আমার কি হবে রে ন্যাটা, আজ দাঁও মারার আনন্দে মাছের ঝোল খেতে গিয়ে দুশো টাকা ধার হয়ে গেল। দু'তিন দিনের মধ্যে টাকা শোধ না করতে পারলে যে মাছওয়ালা যে আমার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে দেবে।"
গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেল ন্যাটা। যাওয়ার আগে বলল, "তোমার ব্যাপার তুমি বোঝ, আমি এতে নেই। তোমার জন্য আমার আজকে সারাদিনের বিজনেসটা জলে গেল।"

বেশ কিছুক্ষণ মেঝেতে বসে থাকার পরে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল সুধীন। ওকে শিক্ষা দেওয়ার সময় গুরুজি যে সব কথাগুলো বলেছিলেন সেগুলো আরো একবার মনেকরার চেষ্টা করল। গুরুজি বলেছিলেন, "এই লাইনে এসেছ মানে তোমাকে সৎ থাকতে। প্রথমবার দাঁও মেরে যেটুকু পাবে, সেটাকেই নিজের প্রাপ্য হিসাবে ভেবে নেবে, তারবেশি চাহিদা কোরোনা।"

পোশাকটাকে নেড়ে চেড়ে দেখল সুধীন। মন্দ নয়। বেশ চলনসই। আস্তে আস্তে পোশাকটাকে তুলে গায়ে পরতেই হঠাৎ গায়ে যেন ইলেক্ট্রিক শক লাগল। সুধীন ভাবল গরীব লোক বড়লোকেদের পোশাক পরলে বোধহয় এমনই ইলেকট্রিক শক লাগে। পোশাকটা বেশ ফিট করেছে ওর শরীরে। দস্তানাওয়ালা জামা আর মোজাওয়ালা প্যান্ট। তারসঙ্গে মুন্ডুতে পরার জন্য একখানা মাঙ্কি টুপি। উফ! দেখলে যেকেউ ভয় খেয়ে যাবে। এগুলো পরে চুরি করতে গেলে কেউ ওকে চিনতেই পারবেনা। বেশ খুশি খুশি মনে সে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আয়নার দিকে তাকাতেই ভীষণ চমকে উঠল। মাথা ঘুরে ভট করে পড়ে গেল মেঝেতে। রান্নাঘর থেকে সুধীনের বউ বলল, "কি গো কি হল? এমন শব্দ হল কেন?"
সুধীন বলল, "কিচ্ছু হয়নি, পোশাকটা মাটিতে পড়ে গেল।"
সুধীনের বউ বলল, "পোশাক পড়লে এরকম শব্দ হবে কেন?"
সুধীন বলল, "ওই পোশাকের ভিতরে যে আমি আছি।"

আজকাল সুধীনের চুরির ব্যাবসা বেশ জমিয়ে চলছে। ওকে কেউ চিনতে পারেনা। অনায়াসেই হাত মেরে নেয়। তবে দিনের মাথায় একবারের বেশি চুরি করেনা। দেখতে দেখতে সুধীন বেশ বড়ো লোক হয়ে উঠল। সেদিন বিছানায় শুয়ে ওর মনেহল জীবনে অনেক পাপ করেছি, এবারে একটু পুন্য করা যাক। সাধারণ মানুষ পুন্য করতে মন্দিরে যায়, সুধীন ভাবল সে তো চোর, সুতরাং সে পুন্য করতে থানায় যাবে। এমনিতে বড়বাবু ওকে সহ্য করতে পারেনা। দেখতে পেলেই ধরে থানায় পুরে দেবে, তবে এই পোশাকটা পরে থাকলে বড়বাবু ওকে চিনতেই পারবেনা। যেই ভাবা সেই কাজ। পরদিন সকালে সে থানায় চলে গেল পুন্য করতে।

থানায় নিজের চেম্বারে গম্ভীর মুখে বসে মেজোবাবুর সঙ্গে কীসব শলা পরামর্শ করছেন বড়বাবু। কি বলছেন, শোনার জন্য সে কাছে এগিয়ে গেল। কাছে যেতেই শুনতে পেল বড়বাবু বলছেন, "আজ তিনদিন ধরে শপিং মলের ভিতরে ওরা আড়াইশো জনকে পনবন্দী করে রেখেছে। যতটাকা চাইছে, সেটা সরকারের পক্ষে দেওয়া এত সহজ ব্যপার নয়।"
মেজো বাবু বললেন, "গোপন কোনো পথ দিয়ে ভিতরে ঢোকা যাবেনা স্যার? তাহলে একচোট ওদের দেখে নিতে পারতাম।"
বড়বাবু মাথা নাড়লেম। বললেন, "না, ভিতরে বেশ কয়েকজায়গায় ওরা বোমা ফিট করে রেখেছে। তাছাড়া সিসিটিভিতে গোটা জায়গাটার উপরে নজর রাখছে। কেউ ভিতরে ঢুকতে গেলেই ওরা বোমাগুলোকে বাস্ট করে দেবে।"
মেজো বাবু বললেন, "তাহলে কি ওদের অন্যায় আবদার মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই?"
বড়বাবু বললেন, "একটা উপায় আছে। আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি, তাতে জানা গেছে ওদের লিডার নাকি একজন বড়ো সায়েন্টিস্ট। কন্ট্রোলরুমে উনি একাই থাকেন। সি সি টিভি পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে বোমাগুলোকে কন্ট্রোলকরা সব উনি একা হাতেই সামলান। যদি কেউ ভিতরে ঢুকে ওনাকে আটকে দিতে পারে, তাহলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।"

এই খবরটা সুধীনও শুনেছে। দিন তিনেক আগেই শহরের একটা শপিংমল হাইজ্যাক করে নিয়েছে সন্ত্রাসবাদীরা। মুক্তিপণ চেয়েছে কোটিকোটি টাকা। শপিংমলে আটকে থাকা মানুষগুলো আর শিশুদের কষ্ট সে টিভির পর্দায় দেখেছে। দেখে ওর চোখে জল এসে গিয়েছে। আর থাকতে না পেরে সুধীন বলল, "স্যার, যদি অনুমতি দেন তো এই ব্যাপারে আমি আপনাদের সাহায্য করতে পারি।"
বড়বাবু চমকে উঠলেন। বললেন, "কে কে তুমি?"
সুধীন বলল, "আজ্ঞে আমি স্যার। সুধীন চোর।"
"ভূ... ভূ..." বলতে বলতে বড়বাবু ভয়ে চেয়ার থেকে ধপাস করে মেঝেতে পড়ে গেলেন। মেজোবাবু বেশ সাহসী মানুষ। বললেন, "যদি এতগুলো লোকের জীবন বাঁচাতে পারো, তাহলে পুলিশ তোমার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবে। তোমাকে মরণোত্তর বীরত্বের পুরষ্কার দেওয়া হবে..."
সুধীন মাথা নাড়ল। বলল, "চলুন স্যার, আপনারাও আমার সঙ্গে চলুন।"

ফোর্স নিয়ে তৎক্ষণাৎ রেডি হয়ে গেলেন মেজোবাবু। রিজার্ভ ফোর্স,  মলটাকে ঘিরেছিল, এবারে পুলিশ এসে ওদের সঙ্গে যোগ দিল। সুধীনকে মেজো বাবু বললেন, "তিন তলার একটা রুমকে কন্ট্রোলরুম বানিয়েছে সন্ত্রাসবাদীরা। ওদের লিডার ওখানেই আছে।"
সুধীন মাথা নাড়ল। শপিংমলের দেওয়ালের কাছে সে এগিয়ে গেল। দেওয়াল বেয়ে একটা জলের পাইপ সোজা পাঁচ তলা পর্যন্ত উঠে গিয়েছে। প্রতিটি তলায় একটা করে ছোট ব্যালকনি রয়েছে। ব্যালকনিতে রাইফেল হাতে সন্ত্রাসবাদীরা দাঁড়িয়ে আছে। তীক্ষ্ণ চোখে চারপাশটাকে অবজারভেশন করছে। পাইপ বেয়ে তরতর করে উপরে উঠে গেল সুধীন। উঠতে উঠতে এক একজনের মাথায় একটা করে গাট্টা মেরে গেল। তিন তলায় উঠে জানালার কাঁচ ভেঙে সে ভিতরে ঢুকে পড়ল। সেকেন্ড ফ্লোরের দেওয়ালে সিসিটিভি লাগানো আছে। মুচকি হেসে সিসিটিভিকে কাঁচকলা দেখিয়ে কন্ট্রোল রুমটা সে খুঁজতে লাগল। ফ্লোরের একেবারে কোনার দিকে কন্ট্রোল রুমটা রয়েছে। দরজা খুলে সে ভিতরে ঢুকে পড়ল। রুমের ভিতরে কম্পিউটারে মুখ গুঁজে যে লোকটা বসে আছে, তাকে দেখেই সে চমকে উঠল। এই লোকটাকে সে চেনে। এই লোকটার কাছ থেকে সে সেই কালো ব্যাগটা চুরি করেছিল। যার ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছিল সেই উদ্ভট পোশাকখানা যেটা সে এই মুহূর্তে গায়ে পরে আছে। হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ পেতেই লোকটা চমকে উঠল। দু'বার, "কে? কে ওখানে...?" বলার পরেই পকেট থেকে পিস্তল বার করে এগিয়ে এল দরজার দিকে। সুধীনের বুকটা ধক করে উঠল। লোকটা গুলি মারলে আর রক্ষে নেই। লোকটা ওর কাছাকাছি আসতেই সে হাতের কাছে থাকা একটা ফ্লাওয়ারপট তুলে দড়াম করে আছড়ে মারল লোকটার মাথায়। লোকটা অ্যাঁক করে জ্ঞান হারাল। আর চিন্তা নেই, কন্ট্রোলরুমকে সে শত্রু মুক্ত করে ফেলেছে, লোকটাকে কাঁধে নিয়ে কন্ট্রোলরুমের দরজা বন্ধ করল সুধীন। বুক ফুলিয়ে মলের ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাইরে বেরিয়ে এল। সন্ত্রাসবাদীরা ওকে দেখে গুলি মারা তো দূরে থাক, দু'চারজন বরং "ভূ... ভূ..." করে জ্ঞান হারাল। মনেমনে হাসল সুধীন। এই পোশাক গায়ে থাকলে যে কেউই ওকে ভূতই ভাববে। সেদিন আয়নায় নিজেকে দেখে সে নিজেই কি কম চমকেছিল? যখন দেখেছিল আয়নায় ওর ছায়া পড়ছেনা। সে বেমালুম হাওয়ায় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে।

লোকটাকে তুলে এনে মেজোবাবুর পায়ের কাছে নামাল সুধীন। মেজোবাবু বললেন, "আমাদের তুমি অনেক উপকার করলে সুধীন। ভূতেরাও যে এত উপকারী হয় সেটা তুমিই আমাদের শেখালে। তোমার আত্মা যাতে শান্তি পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।"
কাঁচুমাচু মুখে সুধীন বলল, "আজ্ঞে স্যার, আমি ভূত নই, মরার আগেই আমাকে ভূত বানিয়ে দেবেন না স্যার।"
মেজোবাবু বললেন, "তা..তা..তাহলে? তুমি এরকম অদৃশ্য অবস্থায় কিভাবে আছো? আমরা কেউই তোমাকে দেখতে পাচ্ছিনা কেন?"
গায়ের পোশাকখানা খুলে সুধীন বলল, "সব এই পোশাকের দৌলতে স্যার। এই বাবু সেদিন একখানা ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি ব্যাগটা চুরি করেছিলাম, তার ভিতরে এই পোশাকখানা পেয়েছিলাম। পোশাকটা পরতেই আমি অদৃশ্য হয়ে গেছি।"
মেঝেতে পড়ে থাকা লোকটার এতক্ষণে জ্ঞান ফিরেছে। ওর দিকে তাকিয়ে মেজোবাবু বললেন, "প্রোফেসার সেন আপনি এমন কাজ করবেন আমরা ভাবিনি? এতবড় বিজ্ঞানী হয়েও এরকম ঘৃণ্য কাজ করতে আপনার বাধলনা?"
প্রোফেসার সেন বললেন, "আপনারা যে আমাকে এভাবে ধোকা দেবেন, সেটা তো আমিও ভাবিনি। আমার তৈরি করা পোশাক দিয়ে আমাকেই কাবু করলেন? আলোর প্রতিফলনের সূত্রকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার ন্যানো ক্যামেরা ব্যবহার করে কতদিনের পরিশ্রমে এই পোশাকটা বানিয়েছিলাম। এমন একটা পোশাক যা একবিন্দু আলোক রশ্মিকেও প্রতিফলিত হতে দেয়না। উলটো দিকে একই কোনে প্রতিসৃত করে দেয়। যে কারনে এই পোশাক যে পরে থাকে সে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই চোর সেদিন দামি বস্তু ভেবে স্টেশন থেকে পোশাকটা চুরি করে নেয়। এদিকে আমার শপিংমলে পনবন্দী করে রাখার প্ল্যানটাও অনেকদিন ধরে ছকা ছিল। সবাইকে অ্যাডভান্স দিয়েও দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, ওই পোশাক পরে মুক্তিপন আদায় করলে কেউ আমাকে দেখতে পাবেনা, আমিও টাকা নিয়ে বিদেশে ভোকাট্টা হয়ে যাব। প্ল্যান বাতিল করলে আমার অনেক টাকার লোকসান হয়ে যেত। তাই পোশাক ছাড়াই বাধ্য হয়ে শপিংমলে হামলা চালাতে হল। তবে প্ল্যানটা সাকসেসফুলও হয়ে যেত, যদি মাঝখানে এই চোরকে নিয়ে এসে আপনারা আমাকে ব্যাগড়া না দিতেন।"
মেজোবাবু হাসলেন। বললেন, "একেই বলে চোরের উপরে বাটপাড়ি," সুধীনের দিকে তাকিয়ে বললেন, "সুধীন তোমার বীরত্বের জন্য আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে তোমাকে পুরষ্কার দেব, তাছাড়া তোমাকে একখানা চাকরি দেওয়ারও ব্যবস্থা করব।"
সুধীন মাথা নাড়ল। ওর মনটা আজ ভীষণ খুশি খুশি। পোশাকখানা ব্যাগের ভিতরে পুরে একখানা রুইমাছ কিনে বাড়িতে ফেরার পথে ভাবল, এতদিন ধরে সে যেসব পাপ করেছে, আজ তার প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেল। এবারে সে চুরি করা ছেড়ে দেবে। এবার থেকে সে ভদ্রমানুষের মতো বাঁচবে।

(সমাপ্ত)
©All rights reserved to sankha subhra nayak

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন