বিশ্বাসঘাতক
শঙখ শুভ্র নায়ক
মিঃমাথুরের দিকে তাকিয়ে অভিক বলল, "এই প্রোজেক্ট সাকসেসফুল হলে আপনার লাভের অঙ্কটা একবার ভাবুন, আজ আপনি কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার কিনে কাল বেচে দিয়ে কোটিকোটি টাকা কামিয়ে নিতে পারবেন, কয়েকবছরের মধ্যেই আপনার কোম্পানি ওয়ার্ল্ডের টপ কোম্পানি হয়ে যাবে। আপনাকে ভুলভাল জায়গায় ইনভেস্ট করতে হবেনা, যেসব জায়গা থেকে প্রোফিট আসবে আপনি তাতেই ইনভেস্ট করবেন। ভাবুন কত সুবিধে।"
মিঃমাথুর মাথা নাড়লেন। বললেন, "প্রোজেক্টটা আমার পছন্দ হয়েছে, কিন্তু টাকার অঙ্কটা তুমি বড় বেশিই বলছ।"
অভিক বলল, "চারশো কোটি টাকা এমন কোনো ব্যাপার নয়। আপনি আপনার একাউন্টেন্ট দের দিয়ে আপনার একবছরের নিট প্রোফিটের হিসাব করুন, তারপর আমাকে হ্যাঁ, বলবেন।"
মাথুর মাথা নাড়লেন। বললেন, "হ্যাঁ, কোম্পানিতে আরো লোক আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখি, সবার পছন্দ হলে আমার তরফ থেকে তোমার কাছে রিপ্রেজেন্টেটিভ পাঠাব।"
মাথা নেড়ে রুম থেকে বেরিয়ে এল অভিক। সে জানে মিঃমাথুরকে সে যেভাবে কনভিন্স করেছে, তাতে উনি যে এই প্রোজেক্টটা একসেপ্ট করবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু পুরো চারশোকোটি দেবেন কীনা এই নিয়ে ওর সন্দেহ হচ্ছিল। ওর স্বপ্নের প্রোজেক্ট দি টাইম ক্লক। অনেক দিন ধরেই এই প্রোজেক্টের চিন্তা করছে অভিক। একটা ঘড়ির আর পি এস, বা রোটেশন পার সেকেণ্ড কে বহুগুণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে কিভাবে সময়কে এগিয়ে বা পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। সে জানে সে যে পথে চিন্তা ভাবনা করছে তাতে জিনিসটা আবিষ্কার করে ফেলতে পারবে। কিন্তু অভিকের মতো লোক এই প্রোজেক্ট থেকে বিশেষ কোনো লাভ করতে পারবেনা। সে যদি জানতেও পারে কাল লটারিতে কোন টিকিটটা জিতবে বা কাল রেসের মাঠে কোন ঘোড়াটা জিতবে তবু বিশেষ কোনো ইনভেস্টমেন্ট ওগুলোর উপরে সে করতে পারবেনা। তাছাড়া এতসহজে এই প্রোজেক্টে সাকসেসফুল হওয়া যাবেনা, অনেক খরচ আছে। বিদেশ থেকে অনেক ইনস্ট্রুমেন্টস আনতে হবে। মিঃমাথুরের সাহায্য ছাড়া সেগুলো কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।
রুমে শুয়ে এসব কথাই ভাবছিল অভিক, হঠাৎ কলিং বেলটা বেজে উঠল। এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলল সে। দরজার বাইরে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্লিম ফিগার। মোটামুটি সাতাশ আটাশের মতো বয়স। দেখতে খুব সুশ্রী। চোখ দুটো যেন লাবন্য মাখানো। অভিকের দিকে তাকিয়ে রিনরিনে স্বরে মেয়েটা বলে উঠল, "আমাকে মাথুর সাহেব পাঠিয়েছেন, উনি এই প্রোজেক্টটা ফাইন্যাল করতে চান।"
অভিক বলল, "আমি ফাইন্যাল যা দাম বলেছি, তারচেয়ে এক পয়সা কম নিতে রাজী নই।"
মেয়েটা বলল, "হ্যাঁ, উনি আপনার চাহিদা অনুযায়ী পুরো চারশো কোটি টাকা দেবেন। রিসার্চ চলা কালীন দশ কোটি, যা আপনার রিসার্চের খরচ, আর বাকি তিনশো নব্বই কোটি আপনি যন্ত্রটা হাতে তুলে দেওয়ার পরে পাবেন।"
অভিক মাথা নাড়ল। বলল, "ভিতরে এসে বসুন।"
মেয়েটা ঘরে ঢুকল। ব্যাগের ভিতর থেকে কাগজ পত্র বার করতে করতে বলল, "এই কয়েকটা পেপারসে আপনাকে একটু সাইন করতে হবে।"
পকেট থেকে পেন বার করে খসখস করে সাইন করে দিল অভিক। পেনটা পকেটে ঢুকিয়ে রাখতে যাবে, তার আগেই মেয়েটা একটা অটোগ্রাফ খাতা ওর দিকে এগিয়ে দিল। বলল, "এখানেও একটা সাইন করে দিন।"
অভিক অবাক হল। সায়েন্টিস্ট দের অটোগ্রাফ সাধারন কেউ চায়না। বলল, "তোমার নাম কি?"
মেয়েটা বলল, "আমার নাম রুনা, আমি আপনার খুব বড়ো ফ্যান। আপনার এক্সরে আই, আর এয়ার টিভি এই দুটো প্রোজেক্ট জাস্ট অ্যামেজিং।"
অভিক "থ্যাঙ্ক ইউ" বলে অটোগ্রাফ খাতায় সাইন করে দিল। রুনা বলল, "আপনার মোবাইল নাম্বারটা কি পাওয়া যাবে?"
অভিক বলল, "কন্ট্রাক্ট পেপারে তো মোবাইল নাম্বার রয়েছে।"
রুনা বলল, "না, এটা তো অফিসিয়াল পেপার, আমি পার্সোনালি আপনার মোবাইল নম্বরটা চাইছি।"
মৃদু হেসে রুনাকে মোবাইল নম্বর দিল অভিক। বলল, "কল করলে এরকম সন্ধ্যেতে করবেন, আমি ফ্রি থাকব।"
মাথা নেড়ে কাগজ-পত্র নিয়ে রুনা চলে গেল। পরদিন সন্ধ্যেতে কফি খেতে খেতে টিভিতে নিউজ দেখছিল অভিক হঠাৎ ওর মোবাইলে রুনার কল এল। বেশ অনেকক্ষণ রুনার সঙ্গে ওর কথা হল। রুনা জানাল সে অনাথ আশ্রমের মেয়ে। মিস্টার মাথুর ওকে আশ্রম থেকে তুলে এনে মানুষ করেছেন। প্রায় নিজের মেয়ের মতোই বড়ো করে তুলেছেন ওকে, ওর কোনো অভাব বুঝতে দেননি। কথা প্রসঙ্গে রুনা বলল, "চারশো কোটি টাকা তো আপনি সহজে খরচ করতে পারবেন না, তাছাড়া আপনি যা ট্যালেন্টেড হয়তো দু'মাস পরেই আরো একটা দারুন প্রোজেক্ট নামিয়ে দেবেন।"
অভিক হাসল। বলল, "খরচ হয়ে যাবে।এই প্রোজেক্টের টাকা থেকে আমার একটা ছোট খাটো অনাথালয় খোলা ইচ্ছে আছে। তাছাড়া আমার ভীষণ ইচ্ছে আছে একটা হাস্পাতাল স্থাপন করার। আর সেই জন্যই এই প্রোজেক্টে আমি হাত দিলাম।"
তারিফের সুরে রুনা বলল, "আপনার মতো মানুষদেরই এই সমাজে ভীষণ প্রয়োজন।"
ফোন কেটে দেওয়ালের দিকে তাকাল অভীক। দেওয়ালে ঝোলানো আছে ওর বাবার ছবি। তখন সে খুব ছোট। হঠাৎ এক রাতে ওর বাবার বুকের ভিতরে যন্ত্রণা শুরু হল। মা সাথে সাথেই গাড়ি ডেকে ওর বাবাকে হাস্পাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু তখন কাছাকাছি কোনো হাস্পাতাল ছিলনা। যাওয়ার পথে মায়ের কোলেই ঢলে পড়েছিল বাবা। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে অভিকের হাতে ধরে বলেছিল, "বাবা, জীবনে যদি কখনো সুযোগ পাস, আমাদের শহরে একখানা হাস্পাতাল বানাস।"
কথা রাখবে অভিক। যেভাবেই হোক হাস্পাতালটা সে বানাবে। বাবার মতো আর কাউকে বিনা চিকিৎসায় মরতে সে দেবেনা।
গত কয়েক মাসে রুনার সঙ্গে একটা ক্লোজ রিলেশন তৈরি হয়ে গিয়েছে অভিকের। অভিক কখনো নিজের বিয়ের ব্যাপারে ভাবেনি, বেঁচে থাকতে মা অনেকবার ওকে তাড়া দিয়েছে। কিন্তু কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে থাকতে সে ভুলেই গিয়েছে নিজের জীবনের কথা। কিন্তু রুনার সঙ্গে মেলামেশা করার পরে ওর মনেহচ্ছে এবারে বিয়েটা করে নেওয়াই যায়। রুনার মতো ভাল মেয়ে সে খুব কমই দেখেছে জীবনে। কেবল ওকে নিয়েই নয়, ওর কাজের ব্যাপারেও ওর ভীষণ উৎসাহ। প্রতিনিয়ত ফোন করে ওর কাজের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়। সে কোনো কিছুতে সফল হলে আনন্দিত হয়, সে ব্যর্থ হলে পাশে থেকে মনের জোর বাড়ায়, এক কথায় ওর জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে রুনা। আর এরকম একটা মেয়েকেই তো সে জীবনে চেয়েছিল।
আজ অবশেষে নিজের প্রোজেক্ট কমপ্লিট করে ফেলল অভিক। তিলেতিলে গড়ে তুলল ওর স্বপ্নের আবিষ্কার দি টাইম ক্লক। এই ঘড়ি হাতে পরে টাইম সেট করলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে অতীতে বা ভবিষ্যতে। একবার চেক করার জন্য ঘড়িটাকে হাতে পরে নিল অভিক। টাইম সেট করে চলে গেল ঠিক কুড়ি বছর পরের ভবিষ্যতে। কুড়ি বছর পরে মাথুর অ্যাণ্ড কোম্পানির পজিশনটা ঠিক কী হবে একবার সে ঘুরে আসতে চায়।
একটা বিশাল কোম্পানির দরজার কাছে এসে দাঁড়াল অভিক। দরজার উপরে লেখা আছে, ওয়ার্ল্ড বেস্ট কোম্পানি মাথুর অ্যান্ড সনস। গেটের কাছে যেতেই দারোয়ান ওর পথ আটকে দাঁড়াল। জিজ্ঞেস করল, "কাকে চাই?"
অভিক বলল, "কাউকে চাইনা, আমি এই কোম্পানির ব্যাপারে কিছু জানতে এসেছি।"
দারোয়ান বলল, "কি জানতে চান বলুন? মাথুর অ্যান্ড সনসের ব্যাপারে কারুর জানতে বাকি নেই। গোটা পৃথিবীতে যে তিনটা কোম্পানি এখন আধিপত্য বিস্তার করেছে তাদের একটা মাথুর অ্যান্ড সনস।"
অভিক মাথা নাড়ল। বলল, "কিন্তু কুড়ি বছর আগে এই কোম্পানিটা একশোর মধ্যেও ছিলনা।"
অভিককে কাছে ডেকে ওর কানে কানে ফিসফিস করে দারোয়ান বলল, "এর পিছনে রহস্যটা বোধহয় আপনি জানেননা। আমি পুরানো লোক, ভিতরের খবরা খবর কিছু রাখি।"
অভিক বলল, "কি রহস্য?"
দারোয়ান বলল, "বছর কুড়ি আগে মিস্টার মাথুর একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন। সেই যন্ত্রটার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ঘুরে আসা যেত। ওই যন্ত্র দিয়েই তো ভবিষ্যৎ দেখে এসে নানা জায়গায় ইনভেস্ট করে আজ উনি এত টাকার মালিক।"
অভিক বলল, "তুমি ঠিক জানো, যন্ত্রটা মিঃমাথুরই আবিষ্কার করেছিলেন?"
দারোয়ান বলল, "এসব কথা তো গোপন, আমি মালিকের প্রিয় লোক বলে জানতে পেরেছি। আপনি আবার কাউকে বলবেন না যেন।"
অভিকের হাতের টাইম শেষ হয়ে গিয়েছিল। সে বর্তমানে ফিরে এল। টাইম ক্লকের আবিষ্কারক হিসাবে লোকে ওর নাম জানেনা দেখে ওর মন একটু খারাপ হয়ে গিয়েছিল, পরক্ষণেই ভাবল, এই রিসার্চটাই তো গোপন রিসার্চ। মিঃমাথুর আর রিনা ছাড়া কেউই সেভাবে এটার ব্যাপারে জানেনা, তাহলে কোম্পানির দারোয়ানই বা জানবে কিভাবে?
ভাবতে ভাবতেই ওর মোবাইলে রিনার ফোন এল। রিনা প্রথমেই জানতে চাইল, "তোমার প্রোজেক্টের কাজ কতদূর হল, কাল তো বললে তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে যাবে।"
অভিক বলল, "শেষ হয়ে গেছে। আমি একবার ভবিষ্যত থেকে ঘুরেও এসেছি। দেখে এসেছি আজ থেকে কুড়ি বছর পরে মাথুর অ্যান্ড কোং বিশ্বের এক নম্বর কোম্পানি হয়ে উঠেছে। কোম্পানিটা নাম বদলে হয়েছে মাথুর অ্যান্ড সনস।"
রিনা বলল, "ওয়াও! যাইহোক, আমি মাথুর সাহেবকে সে কথা জানাচ্ছি, শুনলে উনি খুব খুশি হবেন।"
অভিক বলল, "আচ্ছা, জানাও তবে।"
রিনা বলল, "না পরে জানাব। আপাতত তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।"
অভিক বলল, "বলো?"
রিনা বলল, "আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি অভিক। জানিনা, তুমি আমাকে মেনে নেবে কীনা, তোমার স্ত্রী হবার কোনো যোগ্যতাই আমার নেই, তবু যদি তুমি আমাকে মেনে নাও, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।"
অভিক বলল, "আমিও কয়েকদিন ধরে এই কথাই ভাবছিলাম, কিন্তু কনফিউশনে ছিলাম, তুমি আমার প্রপোজাল একসেপ্ট করবে কীনা।"
রিনা বলল, "ওয়াও! আই অ্যাম সো হ্যাপি। কাল আমি আর মিঃ মাথুর তোমার বাড়িতে যাব। ওখানে তুমি মাথুরের হাতে যন্ত্রটা তুলে দেবে আর মাথুরও তোমার একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবেন। তারপরেই আমরা রেজেস্ট্রি ম্যারেজ অফিসে যাব, সেখান থেকে সোজা ফরেন ট্যুর..."
অভিক বলল, "ইটস ওকে ডার্লিং, তাই হবে।"
আজ সকালে রুমে বসে মাথুরের জন্য অপেক্ষা করছিল অভিক। ওর মনে চূড়ান্ত উত্তেজনা। আর কিছুক্ষণ পরেই রিনাকে নিয়ে ওর কাছে আসছেন মাথুর। ওনার হাতে যন্ত্রটা হ্যান্ড ওভার করে রিনাকে নিয়ে ম্যারেজ রেজেস্ট্রি অফিসে যাবে অভিক, সেখান থেকে যাবে সুইজারল্যান্ড। মাথুর নিজে ওদের প্লেনের টিকিট বুক করেছেন, তাছাড়া সুইজারল্যান্ডে ওনার কোম্পানির নিজস্ব হোটেলে থাকার ব্যবস্থাও করেছেন। মনের মধ্যে চূড়ান্ত উত্তেজনা নিয়ে বসেছিল অভিক, আর থাকতে না পেরে টাইম মেশিনের সুইচ টিপে দিল। ঠিক পনেরো মিনিট পরে গিয়ে লুকিয়ে রইল এই রুমেরই কোনায়। চেয়ারে বসে আছে ওরই ভবিষ্যতের অবয়ব। এই রুমে মাথুর আসার পরে ঠিক কি কি হবে সেটা এক্ষুনি একবার সে দেখে নিতে চায়।
টিং টং বেল বাজতেই দরজা খুলল অভিক। রিনাকে নিয়ে ওর রুমে এসে ঢুকলেন মাথুর। ওর দিকে তাকিয়ে বললেন, "ওয়েলডান ইয়াং বয়, তুমি যে যন্ত্রটা আবিষ্কার করে ফেলবে, এটা নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম।"
অভিক বলল, "আপনার ইকোনমিক্যাল হেল্প না পেলে এটা কখনোই সম্ভব হতনা।"
মাথুর হাসি হাসি মুখে বললেন, "আমি আর বেশিক্ষণ দাঁড়াবনা, তুমি যন্ত্রটা আমার হাতে তুলে দাও, তারপর তোমাদেরও তো রেডি হতে হবে।"
অভিক মাথা নাড়ল। ওর টেবিলের ড্রয়ার থেকে ঘড়িটা বার করে মাথুরের হাতে দিল অভিক। রিনার দিকে তাকিয়ে মাথুর বললেন, "নাও এবারে অভিকের পাওনা, বাকি তিনশো নব্বই কোটি ওর একাউন্টে ট্রান্সফার করে দাও।"
খুশি খুশি চোখে রিনার দিকে তাকাল অভিক, তারপরই ভয়ে ওর হৃদপিন্ড কেঁপে উঠল। রিনার হাতে একটা পিস্তল চকচক করছে। পিস্তলটা অভিকের দিকে তাক করা। অভিক বলল, "এ কি করছ রিনা?"
হাসতে হাসতে রিনা বলল, "বোকা ছেলে, তুমি কি ভাবলে আমি সত্যিই তোমার প্রেমে পড়ে গেছি? আমি যেটুকু করেছি মিস্টার মাথুরের নির্দেশে। উনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তোমাকে এমন ভাবেই মজিয়ে রাখতে যাতে তোমার মনের মধ্যে কোনো নেগেটিভ চিন্তা না আসে।"
কাঁদোকাঁদো গলায় অভিক বলল, "কিন্তু আমাকে মেরে তোমাদের কি লাভ?"
হাসতে হাসতে রিনা বলল, "তুমি যাতে আবার অন্য কারুর হাতে এই রিসার্চ তুলে দিতে না পারো, সে জন্যই এই ব্যবস্থা। তাছাড়া তোমাকে বাঁচিয়ে রাখলে তো টাকা দিতে হবে, রিসার্চের ক্রেডিটও চাইতে পারো, কি লাভ এত ঝামেলায় গিয়ে, তারচেয়ে এখানেই খেল খতম দেওয়া ভাল।"
অভিক কিছু বলতে যাচ্ছিল, তার আগেই রিনার পিস্তল গর্জে উঠল। পিস্তলের একটা গুলি অভিকের বুকের ভিতরটা ভেদ করে বেরিয়ে গেল।
সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমানে ফিরে এল অভিক। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল মিঃমাথুরের আসার সময় হয়ে গিয়েছে। নিচে ওনাদের গাড়ির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। টাইম ক্লকটা আঁকড়ে ধরে থরথর করে কাঁপতে লাগল অভিক। ওর গোটা গা ঘেমে নেয়ে উঠতে লাগল। বাইরে কলিংবেলের শব্দ শোনা যাচ্ছে টিং টং, টিং টং, টিং টং...
(সমাপ্ত)
©All rights reserved to sankha subhra nayak

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন