বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

সাক্ষী

সাক্ষী

শঙখ শুভ্র নায়ক



"আমাদের ব্রেন একখানা কম্পিউটারের মতো। আমরা যা কিছু দেখি, যা কিছু করি, যা কিছু পড়ি প্রতিটি তথ্য আমাদের ব্রেনের মধ্যে ক্রমান্বয়ে সাজানো থাকে। আমাদের এই তথ্যগুলোকে পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা কম বলে আমরা কোনো কিছু ভুলে যাই, তারমানে এটা নয় সেই স্মৃতিটা ব্রেন থেকে ডিলিট হয়ে যায়। আমাদের জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি দিনের, প্রতিটি মুহূর্তের, প্রতিটি ঘটনার ছবি আমাদের ব্রেনের মধ্যে রয়েছে। অনেক সময় সম্মোহনের মাধ্যমে এই ছবিগুলোর কিছু পুনরুদ্ধার করা যায়, আবার অনেক সময় কিছু জটিল যান্ত্রিক পদ্ধতিতে," ইউনিভার্সিটির হলের স্টেজে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন প্রোফেসার গুপ্ত। হঠাৎ হলের মধ্য থেকে একটা ছাত্র উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "স্যার, আপনি তো ব্রেনের মধ্যে থাকা এই তথ্যগুলোকে সম্পূর্ণ ভাবে পুনরুদ্ধার করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। কিন্তু আমি জানতে চাই, এতে আমাদের কি লাভ হবে?"
প্রোফেসার গুপ্ত বললেন, "এই রিসার্চ এলঝাইমার্স রোগের রুগীদের সবচেয়ে বেশি উপকার করবে। তাছাড়া সাধারণ মানুষও এই রিসার্চ থেকে অনেক উপকার পাবেন। অনেক সময় আপনারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যান। এই ধরুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের রোল নম্বর, এমনকি কোনো গুরুত্বপূর্ণ লোকের নাম, মোবাইল নম্বর। যদি পরবর্তীকালে এই সব জিনিসগুলোর খুব প্রোয়োজন হয় আর এগুলো মনে করতে না পারেন তখন আমার রিসার্চ আপনাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করবে।"
ছাত্রটি বলল, "কিন্তু এই রিসার্চ তো খুবই গোপন ভাবে করা হয়েছিল এবং রিসার্চের ফলাফল আজো গোপন রাখা হয়েছে। এত গোপনীয়তার কারন কী?"
প্রোফেসার গুপ্ত বললেন, "যেকোনো ভাল রিসার্চ যাতে শত্রুদেশ চুরি করতে না পারে সেজন্য গোপন করা হয়। আমার রিসার্চও সেজন্যই গোপন রাখা হয়েছে।"
ছাত্রটি বলল, "কারন যদি এটুকুই হত, তাহলে আপনি এই রিসার্চ নিয়ে এত গোপনীয়তা রাখতেন না। নিশ্চই এর পিছনে বেশ বড়ো কিছু কারন রয়েছে, যা আপনি আমাদের বলতে চাইছেন না।"
প্রোফেসার গুপ্ত হাসলেন। অনেক কুয়াশাচ্ছন্ন অতীত এক মুহূর্তে তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠল। বক্তৃতা শেষ করে উনি বাড়িতে এসে ঢুকলেন। খুবই রেস্ট্রিক্টেড এরিয়ায় ওনার বাড়ি কাম রিসার্চ ল্যাবরেটরি। সিলেক্টেড কিছু লোক আর স্পেশাল পার্মিশন ছাড়া এখানে কাউকে এলাউ করা হয়না। রুমে এসে ড্রেস ছেড়ে দেওয়ালের দিকে তাকালেন উনি। দেওয়ালে টাঙানো আছে তাঁর বাবা মায়ের ছবি। এরা তাঁর নিজের বাবা মা নন। তাঁর পালক পিতা মাতা।

কোনো এক্সিডেন্টে বাবা মায়ের মৃত্যু ঘটলে বেশিরভাগ শিশু সত্যি সত্যিই অনাথ হয়ে যায়। পাড়াপ্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন কেউ তার দায় নিতে চায়না। তাদের কারুর ঠাঁই হয় অনাথ আশ্রমে, কেউ বা সরকারি বেসরকারি হোমে। পরিবার এদের সবার কপালে জোটেনা। এদের অনেকের জন্যই কেউ এপ্লাই করেনা। এদেরকে একাই বাঁচতে হয়। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে এরা একদিন ছিনিয়ে খেতে শিখে যায়। আর অবশেষে এরাই একদিন তৈরি হয় চোর, ডাকাত, খুনী, মস্তান।

তাঁর ভাগ্যটা বোধহয় একটু অন্যরকম ছিল। বাবা মায়ের মৃত্যুর পরে তাঁকে এডাপ্ট করেছিলেন এক নিঃসন্তান পুলিশ অফিসার। টাকার অভাব ছিলনা তাঁর, কিন্তু ক্লাস এইট থেকেই তিনি বৃত্তি পেয়েছেন। দশম শ্রেণীর পর থেকে তিনি টিউশনি পড়ান। আর এভাবেই জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় গোল্ডমেডেল পেতে পেতে অবশেষে আজ তিনি প্রোফেসার গুপ্ত। নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন সমাজের কাজে। একটা এনজিও খুলেছেন যারা ওই সব মা বাবা হারা ছোট্ট শিশুদের পুনর্বাসনের কাজ করে।

টিং টং বেল বাজতে দরজা খুললেন প্রোফেসার গুপ্ত। তাঁর বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন সি আই ডি অফিসার সৈকত সান্যাল। বললেন, "একটা নতুন কেসে আপনার হেল্প চাই স্যার?"
প্রোফেসার গুপ্ত আদপে প্রোফেসার হলেও তাঁর আসল কাজ ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের হয়ে কাজ করা। বললেন, "হ্যাঁ, নিশ্চই। বলুন?"
সৈকত বাবু বললেন, "কেসটা দিন তিনেক আগের। একটা বাড়িতে কিছু লোক জোর করে ঢুকে স্বামী এবং স্ত্রীকে খুন করেছে। পুলিশ অনেক তদন্ত করেও দোষিদের গ্রেফতার করতে পারেনি, কয়েকজন সন্দেহ ভাজন কে অ্যারেস্ট করা হলেও ওদের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো প্রমান না পাওয়ায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এই খুনের একটিই মাত্র সাক্ষী রয়েছে, তা হল ওই দম্পতির একটি বাচ্চা।"
প্রোফেসার গুপ্ত বললেন, "বাচ্চাটার বয়স কত?"
সৈকত বাবু বললেন, "সদ্য দু'বছর। এখোনো ঠিকঠাক ভাবে কথা বলতেও পারেনা। ওরা বাচ্চাটার উপরেও অত্যাচার করেছিল। বাচ্চাটার মাথায় চোট লেগেছে, নেহাত ভাগ্য ভাল ছিল তাই বাচ্চাটা বেঁচে গিয়েছে।"
প্রোফেসার গুপ্তর চোখে একটুকরো বিষন্নতা খেলে গেল। বললেন, "আচ্ছা, কাল বাচ্চাটাকে নিয়ে আসুন, আমি দেখি কী করতে পারি।"
সৈকত বাবু মাথা নাড়লেন।

পরদিন দুপুরে বাচ্চাটাকে নিয়ে প্রোফেসার গুপ্তর ল্যাবরটরিতে এসে উপস্থিত হলেন সৈকত সান্যাল। বাচ্চাটা প্রথমে একটু কান্নাকাটি করছিল ঠিকই, কিন্তু খাবার দিতেই শান্ত হয়ে গেল। আস্তে আস্তে বাচ্চাটার মাথায় হাত বুলিয়ে বাচ্চাটাকে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন প্রোফেসার গুপ্ত। বললেন, "সত্যিই মানুষ কী নিষ্ঠুর হয়। অত্যাচারের হাত থেকে বাচ্চাদেরও রেহাই দেয়না।"
সৈকত বাবু বললেন, "এর ব্রেনের ভিতর থেকে কি আপনি ওইদিনের ছবি বার করতে পারবেন, যেদিন বাচ্চাটার উপরে অত্যাচার হয়েছিল?"
প্রোফেসার গুপ্ত বললেন, "জানিনা, চেষ্টা করে তো দেখতেই হবে।"
বাচ্চাটাকে একটা দোলনায় শুইয়ে পাশেই একটা চেয়ার নিয়ে বসে পড়লেন প্রোফেসার গুপ্ত। বেশ কিছুক্ষন একদৃষ্টে বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, "দেখেছেন, কী নিষ্পাপ একখানা মুখ! এই মুখ দেখেও যে মানুষের কেন মমতা হয়না কে জানে? আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকত, তাহলে যে লোকগুলো এই কাজ করেছে, তাদের আমি ফাঁসিতে ঝোলাতাম।"
সৈকত বাবু বললেন, "কী করবেন বলুন? আইনের তো হাত পা বাঁধা। প্রমান ছাড়া সে কিছুই করতে পারেনা। নেহাত আপনি আছেন তাই আমরা অন্তত কিছু অপরাধিকে শাস্তি দিতে পারছি।"
প্রোফেসার গুপ্ত মাথা নাড়লেন। চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে ল্যাবরেটরির ভিতর থেকে একটা হেলমেট নিয়ে ফিরে এলেন। তাঁর বহুদিনের রিসার্চের ফসল এই হেলমেটটা। হেলমেট থেকে কিছু তার বেরিয়ে এসে যুক্ত হয়েছে প্রোজেক্টরে। এই হেলমেটে বেশ কিছু সূক্ষ্ম কানেক্টর রয়েছে, যা চুলের লোমকূপ দিয়ে ভিতরে ঢুকে ব্রেনের নার্ভের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ব্রেনের মধ্যে থাকা সব ছবিগুলো গুলোকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলে। ধীরেধীরে হেলমেটটাকে তিনি বাচ্চাটার মাথায় পরালেন। তারপর প্রোজেক্টরের বোতাম চালু করতেই পর্দায় ধীরেধীরে ফুটে উঠতে লাগল একটুকরো আলোক রশ্মি, কিছু আবছা আবছা ছবি আর কিছু মানুষের কথাবার্তার শব্দ। এটা সেই মুহূর্তের ছবি যখন বাচ্চাটা জন্মগ্রহণ করেছিল। চোয়াল শক্ত করে বসলেন প্রোফেসার গুপ্ত। সময়টাকে পার করতে লাগলেন তিনি। এবারে ক্রমশ পর্দার ছবি স্পষ্ট হতে লাগল। সময়টাকে এগিয়ে সেই রাতে নিয়ে আসতেই হঠাৎ বাচ্চাটা ভয়ানক চিৎকার করে কেঁদে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে পর্দার ছবিও কালো হয়ে গেল। প্রোফেসার গুপ্ত বললেন, "বাচ্চাটা এখোনো ট্রমার মধ্যে রয়েছে। ওই রাতের ঘটনা মনে করতেই চাইছেনা।"
সৈকত বাবু বললেন, "কিন্তু ওই রাতের ঘটনা জানতে না পারলে আমরা দোষিদের খুঁজে বার করব কিভাবে?"
প্রোফেসার গুপ্ত বললেন, "আমরা সাধারণত ভয়ঙ্কর স্মৃতিগুলোকে ভুলে যেতে চাই। আমাদের ব্রেনের মধ্যে থাকা কেমিক্যাল আমাদের এই কাজে সাহায্য করে। এই কেমিক্যালের কোনো হেরফের হলেই কোনো কোনো স্মৃতি দুঃস্বপ্নের মতো আমাদের তাড়া করে। তাই এই কাজে মোটেই তাড়াহুড়ো নয়। খুব ধীরেসুস্থে এই কাজ করতে হবে। নাহলে বাচ্চাটার মানসিক ক্ষতি হয়ে পারে।"
সৈকত বাবু মাথা নাড়লেন। ধীরে ধীরে দ্বিতীয় বারের জন্য প্রোজেক্টর চালু করলেন প্রোফেসার গুপ্ত। সময়টাকে এগিয়ে ওইদিনে নিয়ে এলেন। সেদিন সারাদিনে বাচ্চাটা কি কি করেছে, কখন খেয়েছে, কখন টলোমলো পায়ে হাঁটার চেষ্টা করেছে, কখন আধোআধো স্বরে কথা বলার চেষ্টা করেছে, কোনকোন খেলনা নিয়ে খেলাধুলা করেছে, এসব দেখতে দেখতে রাতে চলে এলেন। রাত ন'টা নাগাদ বাচ্চাটা ঘুমিয়ে পড়ল। মনেহল, দু'খানা কপাট ওয়ালা একটা দরজা যেন বন্ধ হয়ে গেল। দরজাটা আর কিছুই নয়, মানুষের দুটো চোখ। তখনও কিন্তু বাচ্চাটার কান সজাগ রয়েছে। পাশ থেকে শোনা যাচ্ছে ওর বাবা মায়ের ফিসফিস কথা বলার আওয়াজ। হঠাৎ মাঝরাতে দড়াম দড়াম করে কিছু একটা শব্দে বাচ্চাটা চমকে উঠল। আর ঠিক তখনই আবার বাচ্চাটা কেঁদে উঠল। পর্দার ছবি ঝাপসা হয়ে যেতে, বাচ্চাটাকে তুলে কিছু খাবার দাবার দিলেন প্রোফেসার গুপ্ত। বেশ কিছুক্ষণ কিছু খেলনা নিয়ে খেলাধুলা করার পরে বাচ্চাটা ঘুমিয়ে পড়তে আবার পদ্ধতিটা শুরু করলেন। এবারে দেখতে দেখতে পেলেন তিনটা লোক দরজা দিয়ে ভিতরে এসে ঢুকেছে। দুটো লোকের হাতে দেশি কাট্টা আর একটা লোকের হাতে ভোজালি। বিছানায় ভয়ে জড়ো সড়ো হয়ে বসে আছে বাচ্চাটার বাবা মা। লোকগুলো এসে প্রথমেই বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিল। তারপর বাচ্চাটার মুখে রুমাল গুঁজে গলায় ভোজালি ধরে বাড়ির সেফে রাখা টাকা পয়সা, গয়না গাঁটি লুট করতে লাগল। লুট করা হয়ে গেলে বাচ্চাটার বাবাকে বেঁধে রেখে বাচ্চাটার মাকে মেঝেতে ফেলে তিনজনে মিলে ধর্ষণ করল এবং শেষে দু'জনকে গুলি করে বাচ্চাটাকে মেঝেতে আছড়ে ফেলল। যাওয়ার সময় একটা লোক আর একটা লোককে বলছিল, "বাচ্চাটাকেও মেরে ফেললে হয়না?"
দ্বিতীয় লোকটা বলল, "খালিখালি গুলি নষ্ট করে কোনো লাভ নেই। ও তো কথা বলতেই পারেনা, আমাদের নাম কাকে বলবে?"

প্রোজেক্টর অফ করলেন প্রোফেসার গুপ্ত। তাঁর হাড় হিম হয়ে এসেছে। বললেন, "পুরো ঘটনাটা চিপসে রেকর্ড করে নিয়েছি। যদি আপনাদের কোনো কাজে লাগে খুব খুশি হব।"
চমক ভেঙে সৈকত বাবু বললেন, "কাজে লাগবে কী বলছেন অপরাধী তো আমরা পেয়ে গেছি। এই তিনটা লোক ছোটখাটো চোর। এরা এরকম কাজ করবে কেউ ভাবেনি। তাই এদের সন্দেহের তালিকাতেও রাখা হয়নি। সবই আপনার ক্রেডিট। আপনি না থাকলে এই লোকগুলোকে ধরা সম্ভবই হতনা কোনোদিন।"
ফস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন প্রোফেসার গুপ্ত। বললেন, "আমি তো নিমিত্ত মাত্র ক্রেডিট যদি দিতেই হয় তাহলে এই বাচ্চাটাকে দিন। ও ঘটনাটা দেখেছিল বলেই আজ আপনারা আপনাদের সঠিক অপরাধী চিহ্নিত করতে পারলেন।"
সৈকত বাবু মাথা নাড়লেন। বললেন, "এই নিয়ে তেত্রিশটা এরকম কেস আপনার জন্য সলভ হল। আপনার তো এবারে সরকারি পুরষ্কার পাওয়া উচিৎ।"
প্রোফেসার গুপ্ত বললেন, "মোটেই না। আমি পুরষ্কার পাওয়ার জন্য এই কাজ করছিনা, সমাজ থেকে জীবানুগুলোকে পরিষ্কার করার জন্য এই কাজ করছি। আজ আমি পুরষ্কার পেলে ব্যাপারটা সকলের কাছে জানাজানি হয়ে যাবে, তখন ওরা হয়তো এই বাচ্চাগুলোকেও বাঁচিয়ে রাখবেনা, যাদের ব্রেন থেকে তথ্য নিয়ে আমি অপরাধীদের চিহ্নিত করছি।"
সৈকত বাবু মাথা নাড়লেন, "একথা ঠিক কিন্তু..." কী যেন বলতে গিয়েও থেমে গেলেন সৈকত বাবু। প্রোফেসার গুপ্তকে সেলুট করে উনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।


বিকেল হয়ে এসেছে। গাছের পাতায় বিকেলের নরম রোদ আলতো করে চুমু দিয়ে যাচ্ছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালার কাছে এসে দাঁড়ালেন প্রোফেসার গুপ্ত। সৈকত বাবু যদি জানতেন তিনি কেন এই কাজ করছেন তাহলে হয়তো তাঁকে পুরষ্কারের কথা কখনো বলতেন না। আজ থেকে একান্ন বছর আগে একদিন তার চোখের সামনে এমন ভাবেই ছটপট করতে করতে শেষ হয়ে গিয়েছিল তার বাবা মা। দেখেও সেদিন তাঁর কিছু করার ছিলনা। আজ কিন্তু তিনি পারেন। অনেক কিছুই করতে পারেন।

(সমাপ্ত)
©All rights reserved to sankha subhra nayak

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন