বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

প্রতিশোধ

প্রতিশোধ

শঙখ শুভ্র নায়ক



সেই দিনটার কথা আজো বার বার ভয়ংকর স্মৃতির মতো অরিন্দমের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কলতলার পাশে সেই পুরোনো মাদার গাছ আর তার পাশে বাথরুম। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাইরে বাথরুমে যেতে হত। অরিন্দমের তখন চৌদ্দ বছর বয়স। ওর বোন সাথীর তখন এগারো। একদিন চার পাঁচটা লোক অরিন্দমদের বাড়িতে ভাড়া এল। লোকগুলোকে দেখে বেশ ভদ্র বলেই মনেহয়েছিল। অরিন্দমের বাবার কাছে এসে বলেছিল, "একটা ছোট খাটো কাজে এসেছি। পাঁচদিন ভাড়া থাকব, কী নেবেন বলুন?"
অরিন্দমের বাবা বিভাস বাবু বলেছিলেন, "দেখুন বাড়ি তো আগে কাউকে ভাড়া দিইনি।"
ওদের মধ্যে একটা গোঁফ ওয়ালা লোক যার নাম ছিল নিত্যানন্দ। বলেছিল, "সে জন্যই তো আপনার বাড়িটা চাইছি। ভাড়াবাড়ি তে থাকতে আমাদের পোশাবেনা। আমরা একটু নিরিবিলিতে থাকতে চাই। শুনলাম আপনাদের বাড়ির বাইরে একটা চালার মতো আছে ওখানেই আমরা চার পাঁচজন থেকে যেতে পারব। টাকার ব্যাপারে চিন্তা করবেন না। পাঁচদিনে পাঁচ হাজার পাবেন। যদি রাজি থাকেন তো বলুন।"
বিভাস বাবু অবাক হলেন। বললেন, "ওই চালাটা মোটেই পরিষ্কার নেই, উপরে টালি বসানো ছাদ পর্যন্ত নেই। ওটার জন্য দিনে বড়জোর একশো টাকা ভাড়া হওয়ার কথা।"
নিত্যানন্দ বলেছিল, "আমাদের কথা কথা, এই তিনহাজার রাখুন দু'তিন দিনের মধ্যে বাকি দু'হাজার পেমেন্ট করে দেব।"
টাকার ব্যাপারে কোনো গাফিলতি লোকগুলো করেনি। তিন দিনের মাথায় পুরো পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তার বদলে যে ক্ষতি করে গিয়েছিল তা অপূরণীয়। পঞ্চম দিন রাতে কখন লোক গুলো চলে গিয়েছিল তা অরিন্দম জানেনা। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠতেই দেখেছিল ওদের বাড়িতে লোকের ভিড় জমে গেছে। কেউ কোনো কথা বলছিল না। ভিড় ঠেলে কল তলায় পৌঁছাতেই দেখেছিল ওর বোনের মৃত রক্তাক্ত নগ্ন শরীরটা কল তলায় পড়ে আছে। সম্ভবত কাল রাতে যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে বাথরুমে গিয়েছিল তখনই একদল কুকুর যেন তাকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়ে রেখে গেছে। ভয়ে শিউরে উঠেছিল অরিন্দম, তারপর থেকে হ্যালুসিনেশনের মতো ওই ছবিটা মাঝেমাঝেই ওর চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বুকের মধ্যে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়।
থানায় কেস করেছিল বাবা। পুলিশ ওদের জেরা করে লোক গুলোর বর্ননা শুনে বলেছিল, "আপনি তো ঘরে কালসাপ পুষে ছিলেন মশাই। ছোবল খাবেন এটাই তো স্বাভাবিক।"
উত্তেজিত ভাবে বিভাষ বাবু বলেছিলেন, "আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করে গেল আর আপনি আমাকে কাল সাপ পোষার গল্প শোনাচ্ছেন? ওদের ধরতে পারবেন কীনা বলুন?"
পুলিশ অফিসার বলেছিলেন, "আমরা ফোর্স পাঠাচ্ছি। বোর্ডার সিল করে দিতে বলছি, কিন্তু ওদের ধরা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনি যাকে নিত্যানন্দ বলছেন সে আসলে হিজাব নামে একটি জঙ্গি সংগঠের মাথা স্পাইডার, ইন্টারপোল লিস্টে মোষ্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। ঝিটবেড়ির জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়ে থাকা একটি ভারতীয় জঙ্গি সংগঠের সঙ্গে কোলাবোরেশনে ওরা কাজ করছে। কেন্দ্রীয় আধাসেনাও ওদের কাবু করতে পারেনি। এখানে ওরা মুখ্যমন্ত্রীর উপরে হামলা চালাতে এসেছিল, কিন্তু আমাদের তৎপরতায় ব্যর্থ হয়, সেই রাগেই হয়তো..."
হতাস ভাবে বিভাস বাবু বলেছিলেন, "সেই রাগে আমার মেয়ের উপরে অত্যাচার করে যাবে, আপনারা কিচ্ছু করতে পারবেন না?"
পুলিশ অফিসার বলেছিলেন, "আমরা চেষ্টা করছি।"

তারপর আট বছর কেটে গেছে। স্পাইডার আজো ধরা পড়েনি। ভাবনায় চিন্তায় বিভাস বাবুও একদিন স্টোকে চলে গেলেন। ওনার স্ত্রী মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে এসাইলামে ভর্তি। একটা হাসি খুশি সুন্দর পরিবার কয়েকটা সন্ত্রাসবাদীর জন্য ধ্বংস হয়ে গেল।

কম্পিউটারের সামনে বসে একটা পোগ্রাম রেডি করছিল অরিন্দম। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্কলার স্টুডেন্ট অরিন্দম নাকি আজকাল বখে গেছে। চার পাঁচটা কোম্পানীর ভালভাল অফার পেয়েছিল সে। বিদেশে যাওয়ারও সুযোগ এসেছিল কিন্তু সব কিছু ফিরিয়ে দিয়ে বাড়িতে বসে কয়েকজন ব্ল্যাক লিস্টেড বিজ্ঞানীর সঙ্গে যোগাযোগ করে খারাপ কিছু তৈরি করার চেষ্টা করছে। ওর যত যা বন্ধু, আত্মীয় স্বজন ছিল সবাই ওর সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে, ছাড়েনি কেবল একজন, অর্ণব। পুলিশে চাকরি করে সে। পড়াশুনা বেশিদূর করতে পারেনি, তবু বিশ্বাস করে অরিন্দম খারাপ কিছু করতে পারেনা। আজ রুমে ঢুকে দেখল অরিন্দমের মুখ বেশ চিন্তিত লাগছে। ওর পাশে একটা পেপার নামানো, যার প্রথম পাতায় বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা রয়েছে-- "আমেরিকাকে পরমানু বিষ্ফোরনের হুমকি দিলেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জন উন।"
অর্ণবকে দেখেই অরিন্দম বলল, "পরমানু বোমা কিভাবে তৈরি হয় জানিস?"
অর্ণব বলল, "ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয় শুনেছি।"
অরিন্দম বলল, "ইউরেনিয়ামের দুটো আইসোটোপ আছে ইউরেনিয়াম ২৩৫ আর ইউরেনিয়াম ২৩৮, এই ২৩৮ আইসোটোপটাকে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় যা থেকে ২৩৫ আইসোটোপ সংগ্রহ করা হয়।"
অর্নব মাথা নাড়ল। বলল, "বুঝলাম।"
অরিন্দম বলল, "ইউরেনিয়াম ২৩৫ আইসোটোপকে একটি স্বল্প গতি সম্পন্ন নিউট্রন কনিকা দ্বারা আঘাত করলে তা ভেঙ্গে অস্থায়ী আইসোটোপ ইউরেনিয়াম ২৩৬ তৈরি করে, যা আবার ভেঙ্গে বেরিয়াম এবং ক্রেপটন পরমানুতে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে। এরা আবার আরো তিনটি নিউট্রন নির্গত করে যা আরো তিনখানা পরমানুর কেন্দ্রক ভেদ করে সেই তিনটি পরমানু আবার ভেঙ্গে গিয়ে আরো ন'টি নিউট্রন উৎপন্ন করে যা আরো ন'খানা পরমানুর কেন্দ্রক ভেদ করে এইভাবে একটি শৃঙখল বিক্রিয়া বা চেন রি একশন তৈরি হয়, এই পদ্ধতিতে উৎপন্ন শক্তির পরিমান আইনস্টাইনের E=mc2 সূত্র থেকে গননা করা যায়, যেখানে একগ্রাম পরিমান পদার্থ সম্পূর্ন রূপে শক্তিতে পরিনত হলে উৎপন্ন শক্তির পরিমান হয় ১ গুনিত আলোর গতিবেগের স্কোয়ার পরিমান ক্যালরি।"
চোখ বড় বড় করে অরিন্দমের দিকে তাকাল অর্ণব। বলল, "এ তো হিউজ পরিমান শক্তি।"
অরিন্দম মাথা নাড়ল। বলল, "হিউজ তো বটেই। হিরোসিমা আর নাগাসাকি তে দুটো ছোট ছোট পরমানু বোমা ফেলা হয়েছিল, হিরোসিমায় লিটল বয় আর নাগাসাকিতে ফ্যাটম্যান। যার জন্য এই দুটো শহর সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।"
অর্ণব বলল, "কিন্তু তুই এসব ব্যাপার নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছিস কেন? তুইও কি কোনো পরমানু বোমা তৈরির ব্যাপারে গবেষণা করছিস নাকি?"
অরিন্দম বলল, "যদি পারতাম তাহলে করে ফেলতাম, কিন্তু আমার একখানা কম্পিউটার সম্বল যা দিয়ে আর যাইহোক পরমানু বোমা বানানো যায়না।"
অর্ণব মাথা নাড়ল। বলল, "হ্যাঁ, তা ঠিক, কিন্তু এত বছর ধরে এত জটিল জটিল পোগ্রাম লিখে তুই বানাচ্ছিস টা কি?"
অরিন্দম বলল, "একটা ভাইরাস। ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ভাইরাস, যা দিয়ে আমি যেকোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের ভিতরে ঢুকতে পারি, আর..."
অর্ণব বলল, "আর?"
সুর বদলে অরিন্দম বলল, "গত আটবছর ধরে একটা চিন্তাই আমাকে কুরে কুরে খেয়েছে সেটা হচ্ছে স্পাইডারকে যেভাবে হোক খুঁজে বার করতে হবে, এবং আমার বোনের হত্যার বদলা নিতে হবে। দরকারে পৃথিবীর সব ডিভাইস হ্যাক করব, তবু স্পাইডারকে যেভাবে হোক খুঁজে বার করবই।"
অর্ণব মাথা নাড়ল। বলল, "কিন্তু খুঁজে বার করলেই তো হবেনা, ওর উপরে হামলা চালাতে হলে সেই পরিমান লোকবল দরকার, তাছাড়া আমার মনেহয়না ও আর এই দেশে আছে, ও সম্ভবত পাকিস্থানে, যেখানে গিয়ে হামলা চালানো আমাদের দেশের সেনাদের পক্ষেও সম্ভব নয়।"
হতাস গলায় অরিন্দম বলল, "জানিনা কী হবে? দরকারে নিজের জীবন দেব তবু স্পাইডারকে আমি ছাড়বনা। তুই যদি ওর কোনো খবর পাস আমাকে জানাস।"
মাথা নেড়ে অর্নব চলে গেল। জানালার কাছে এসে দাঁড়াল অরিন্দম। মেঘের ফাঁক দিয়ে দুধেল জ্যোৎস্না ছিটকে এসে বাইরেটাকে ভাসিয়ে দিয়ে যাচ্ছে, সেদিকে তাকিয়ে দেখতে পেল মাদার গাছের তলায় দাঁড়িয়ে ওর বোন যেন হাত ছানি দিয়ে ওকে ডাকছে।

আজ সকালেই ভাইরাসটা তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করল অরিন্দম। এই ভাইরাসই হয়তো পৃথিবীর সব চেয়ে শক্তিশালী ভাইরাস। এবারে সে পারবে, একটা কোনো ক্লু পেলেই স্পাইডারের উপরে হামলা চালাতে পারবে। কেবল আইপি এড্রেস, ইএম আই কোড বা ফোন নাম্বারের মতো এমন একটা কিছু দরকার, যেটা হ্যাক করে সে স্পাইডারের ডিভাইসে ঢুকে পড়তে পারে, কিন্তু ভাইরাসটা কাজ করবে তো? সামান্য কিছু ভুলত্রুটি হলেই কি হবে সেটা চিন্তা করতেই ওর গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল। হঠাৎ অর্ণবের ফোন ঢুকল ওর মোবাইলে। অর্ণব বলল, "হ্যালো, অরিন্দম তোকে একটা খবর দেওয়ার আছে।"
অরিন্দম বলল, "হ্যাঁ বল।"
অর্ণব বলল, "স্পাইডারের একটা খোঁজ পাওয়া গেছে। আজ শিশু দিবসে রাষ্ট্রপতির সভায় ওর দলের কয়েকজন হামলা চালাতে এসেছিল, যাদের একজন কে আমরা ধরেছি। তাকে জেরা করে জানা গেছে দক্ষিণ চিন সাগরে একটা পুরো দ্বীপ কে দখল করে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাচ্ছে স্পাইডার আর চিন ওকে সাহায্য করছে।"
অরিন্দমের চোখ চক চক করে উঠল। বলল, "আর কিছু পাওয়া যায়নি?"
অর্ণব বলল, "একটা ফোন নাম্বার পাওয়া গেছে, যেটা স্পাইডারের বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।"
উৎফুল্ল ভাবে অরিন্দম বলল, "ফোন নাম্বারটা বল আমাকে," অর্ণব ফোন নাম্বারটা দিতেই বলল, "থ্যাঙ্ক ইউ ভাই। তুই আমার যে উপকার করলি, তা আমি মরার পরেও ভুলবনা।"
অর্ণব জিজ্ঞেস করল, "কি করতে চাইছিস তুই?"
অরিন্দম বলল, "কাল সকাল হলেই দেখতে পাবি।"

সকাল বেলায় ওসির কল ঢুকল অর্ণবের মোবাইলে। আজ ওর ডিউটি ছিলনা। ভেবেছিল একটু বেলা পর্যন্ত ঘুমোবে হঠাৎ এভাবে কল পেতে সে বেশ বিরক্তই হল। ফোন ধরে "হ্যালো" বলতেই ওপাশ থেকে ওসি বললেন, "হ্যালো অর্ণব একটা জরুরি দরকারে তোমাকে ফোন করলাম। তুমি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অরিন্দম মুখার্জী কে চিনতে তাই না?"
অর্ণব বলল, "হ্যাঁ স্যার ও আমার বন্ধু। কেন কি হয়েছে?"
ওসি বললেন, "কাল রাতে ও মারা গেছে।"
অর্ণব আঁতকে উঠল। বলল, "কিভাবে স্যার?"
ওসি বললেন, "প্রবল বিষ্ফোরণ ঘটেছিল ওর ঘরে। ঘরের ভিতরে যা কিছু ছিল সব ছাই হয়ে গেছে। আশ্চর্যের ব্যাপার ঘরে কোনো বিষ্ফোরক দ্রব্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন সম্ভবত ওর রুমের কম্পিউটার থেকেই এই বিষ্ফোরণ ঘটেছে। কিন্তু কম্পিউটার বাস্ট করলেও এত বড় বিষ্ফোরণ হবে এটা ঠিক বিশ্বাস হয়না। তুমি একবার এসো, তুমি ওর বন্ধু ছিলে যদি কোনো ব্যাপারে আলোকপাত করতে পারো।"
ড্রেস চেঞ্জ করে রেডি হয়ে গেল অর্ণব। বাইরে বেরিয়ে আসার সময় দেখতে পেল ওর বাবা চেয়ারে বসে টিভি দেখছেন। সকালে টিভিতে খবর দেখা অর্নবের বাবার অভ্যেস। রিটায়ার মানুষ উনি। সারাদিনে কাজ নেই, তাই টিভি দেখেই খানিকটা সময় কাটান। অর্ণব কে দেখে বললেন, "কোথাও বেরুচ্ছ?"
অর্ণব বলল, "হ্যাঁ বাবা, ওসি কল করেছেন একবার থানায় যেতে হবে।"
বাবা বললেন, "একটু দাঁড়িয়ে যাও। এই খবরটা একটু দেখে যাও।"

বিরক্ত ভাবে টিভির দিকে তাকাল অর্ণব। হঠাৎ একটা খবরে ওর চোখ আটকে গেল--
"নমষ্কার এই মুহূর্তের বিশেষ খবর হল কাল রাতে দক্ষিণ চিন সাগরের চে ইয়ান নামে একটি দ্বীপ প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে জলের তলায় ডুবে গেছে। গোপন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী এই দ্বীপে হিজাব নামে একটি জঙ্গি সংগঠন চিনের মদতে ডেরা বেঁধে ছিল। এই ভূমিকম্পের কারণ স্পষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি। চিনের দাবি আমেরিকা দ্বীপটার উপরে মিশাইল হানা চালিয়েছে। দ্বীপে থাকা প্রায় সমস্ত লোকই মৃত। কেবল একজনকেই মাত্র জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, কিন্তু তার মানষিক ভারসাম্যের অভাব আছে বলে তার বয়ানকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেনা। আমাদের প্রতিনিধি সরাসরি ওই ব্যক্তির কাছে চলে যাচ্ছেন..."
ক্যামেরাটা এখন এক ছাগুলে দাঁড়ি ওয়ালা ভদ্রলোকের দিকে তাক করা। সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার নাম?"
ভদ্রলোক বললেন, "নাম, নাম আমার নাম ইয়াং চু।"
প্রতিনিধি জিজ্ঞেস করলেন, "কি করেন আপনি?
ইয়াং চু বললেন, "আমি আমি জেলের কাজ করি। কাল রাতে আমার নৌকা নিয়ে আমি পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম তারপর এই দ্বীপে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম।"
প্রতিনিধি জিজ্ঞেস করলেন, "কাল রাতে আপনি কি দেখেছিলেন আমাদের বলুন?"
ইয়াং চু বললেন, "কাল রাতে দেখলাম, কি দেখলাম? ও হ্যাঁ বিকট ভয়ানক জিনিস। দেখলাম এখানে অনেক রাইফেল ধারী লোক কানে ফোন নিয়ে কথা বলতে বলতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, হঠাৎ ফোন গুলো সব একে একে বাস্ট করতে শুরু করল, কাছে থাকা একটা বাড়িও বাস্ট করে উড়ে গেল। আমি ভয়পেয়ে আমার নৌকায় গিয়ে লুকিয়ে পড়েছিলাম তখনই একটা বিরাট বিষ্ফোরণ হল, তারপর দ্বীপটা জলের তলায় ডুবে গেল। আমি কিছু দেখিনি, কিছু দেখিনি।"
ইয়াং চু ছুটে পালিয়ে গেলেন। সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধি বললেন, "আপনাদের দেখালাম এক মানষিক ভারসাম্যহীন প্রতক্ষ্যদর্শীর বিবরন অনুযায়ী কিভাবে এই দ্বীপে ধ্বংস হয়, তবে চীনা পুলিশ এসেছে, ফরেন্সিক টেস্ট চালাচ্ছে দেখা যাক ওরা কি রিপোর্ট দেয়। সঙ্গে থাকুন। দেখতে থাকুন।"

ফস করে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল অর্ণব। এই কাজ অরিন্দম ছাড়া আর কারুর নয়, সে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছিল, সম্ভবত এমন কোনো ভাইরাস আবিষ্কার করে ফেলেছিল যা যেকোনো  ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে চেন রিএকশন শুরু করতে পারে, কাল বিকেলে ওর কাছ থেকে ফোন নাম্বারটা পাওয়ার পরে হ্যাক করে ঢুকে পড়েছিল স্পাইডারের ফোনের নেটওয়ার্কে তারপরেই বুম...!! দরজার দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় অর্ণবের চোখ দুটো জলে ভিজে উঠেল। ফিসফিস করে বলল, "তুই পেরেছিস অরিন্দম। নিজের জীবন দিয়ে শুধু তোর নয় এই দেশের একজন শত্রুকে বিনাশ করতে পেরেছিস..."

(সমাপ্ত)
©All rights reserved to sankha subhra nayak

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন